গানের কপিরাইট নিয়ে বর্তমানে সচেতন হচ্ছেন সবাই। বিশেষ করে ইউটিউব যখন গানের একমাত্র মাধ্যম এখন তাই কপিরাইট নিয়ে কার্যক্রমও বেড়েছে। এ নিয়ে সম্প্রতি নতুন বিতর্ক উঠেছে সঙ্গীতাঙ্গনে। কিছুদিন আগে ইউটিউবে মুক্তি পায় জনপ্রিয় ফোক গান ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’। গানটিতে নতুন সঙ্গীতায়োজনে কণ্ঠ দেন চঞ্চল চৌধুরী ও মেহের আফরোজ শাওন। গান প্রকাশের পর থেকে কপিরাইট ইস্যুতে নামিয়ে ফেলতে হয় আবার। গানটি নিয়ে উঠেছে পাইরেসির অভিযোগ। ‘সরলপুর’ নামের এক আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দাবি করছে এই গানের স্বত্ব তাদের। কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই গানটি নতুন করে প্রকাশ করেছে আইপিডিসি। গানটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। গানটির নতুন আয়োজন দর্শক ও শ্রোতারা বেশ প্রশংসা করেছেন। তবে কপি রাইটের অভিযোগ আসার পর-অনুমতি না নিয়ে গানটি ব্যবহার করায় দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটি নিজেদের দাবি করে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছে সরলপুর ব্যান্ড। তারা জানান, গানটি নিয়ে মানুষের মাঝে নানা ধরণের বিভ্রান্তিও ছড়িয়ে পড়েছে যে এটি ময়মনসিংহ গীতিকা থেকে সংগৃহীত একটি গান। মূলত গানটি তাদের ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা ভোকাল ও গিটারিস্ট তারিকুল ইসলাম তপনের লেখা ও সুর করা এ গানটি সরলপুর ব্যান্ড শুরু থেকেই পরিবেশন করে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন সময় তাদের গানটি অনেকেই নিজের বলে প্রকাশের চেষ্টা করে এসেছেন। যার ফলে ২০১৮ সালে তারা গানটির কপিরাইট সংগ্রহ করি।
গানটি প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘গানটি প্রকাশের পর যে ঘটনা ঘটছে তাতে আমি খুবই অবাক হচ্ছি। ‘যুবতী রাধে’ গানটিকে আমরা সবাই প্রচলিত গান বলেই জানতাম। তখনকার সাধকেরা রাধাকৃষ্ণের প্রেম নিয়ে পালা-পুঁথি লিখতেন, নানা পদ রচনা করতেন। এমন প্রচলিত গানের জন্য অনুমতি লাগবে সেটা কেউ ভাবেনি। ইউটিউবেও এই গানের অনেকগুলো ভার্সন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ব্যান্ডের নাম ক্রেডিট হিসেবে দেয়া নেই। যদি জানা যেত গানটির মালিক সরলপুর ব্যান্ড তাহলে আইপিডিসি বা পার্থ বড়ুয়া অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতো।
