জফরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়

শত বছরেও হয়নি পাকা ভবন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৪

টিনশেডের হাফবিল্ডিং একটি ঘর। ফুটো হয়ে গেছে ঘরের চাল। দেওয়ালের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফাটল। খসে পড়ছে দেওয়ালের প্লাস্টার। ঘরটির এক পাশে লোহার শিকলে মোড়ানো একটি টিউবওয়েল। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি নেই। অন্য পাশে রয়েছে ময়লা-আর্বজনায় ভরা একটি টয়লেট। ঘরটির সামনে কিছুটা খোলা জায়গা রয়েছে। তবে নেই সীমানাপ্রাচীর। খোলা জায়গার এক কোনে অরক্ষিতভাবে পড়ে আছে শহিদ মিনার। এ অবস্থায় বহুকালের পুরোনো ও জরাজীর্ণ এ ঘরটিতেই চলছে জফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম। শত বছরেও এ বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নির্মাণসহ হয়নি অবকাঠামোগত কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জফরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চার জন শিক্ষক থাকলেও শিক্ষার্থী আছে মাত্র ৭৪ জন। জফরপুর গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা আল ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি, এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে দূর-দূরান্ত থেকে ২০-৩০টি গ্রামের ছাত্রছাত্রী আসত। কিন্তু এখন আর এ স্কুলে ছাত্রছাত্রী আসতে চায় না। বিদ্যালয়টির পাকা বিল্ডিংঘর না হওয়ায় এই গ্রামের শিশুরাও অন্য স্কুলে চলে যায়। একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, এই স্কুলের অনেক পরে প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলোর ভবন আছে। কিন্তু এই স্কুলের ভবন ১০০ বছরেও হয়নি। তাই একটি স্কুলভবন নির্মাণ করা খুব জরুরি। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল জলিল বলেন, ‘স্কুলঘরটি ভাঙাচোরা। ঘরের ভেতরে অন্ধকার। বৃষ্টি এলে পানি পড়ে। ভালো টয়লেট নেই। টিউবওয়েলে পানি নেই। বাচ্চাদের খেলাধুলা করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। এখানে কি করে পড়াশোনা করবে শিশুরা। লেখাপড়া করার মতো কোনো পরিবেশই এখানে নেই। তাই ছাত্রছাত্রীরা অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে।’

বিদ্যালয়টির তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাফি জানায়, ভাঙাচোরা স্কুলে পড়াশোনা করতে তাদের অনেক কষ্ট হয়। তাই স্কুলে আসতে মন চায় না। প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের নানামুখী সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, আমি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো কোনো পরিবেশ তখন ছিল না। জরাজীর্ণ ঘরটি ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। তারপর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব পরিষ্কার করেছি। তারপর মাত্র দুই মাস পাঠদান কার্যক্রম চালাতে পেরেছি। এরপরই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়ে যাওয়ায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য শিক্ষার্থীরা আসতে চায় না। আমি যোগদানের পর একবার সমাবেশ করেছি। একটি ভবন নির্মাণের জন্য বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও বারবার যোগাযোগ করছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে ভবন নির্মাণসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি। কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যালয়টি সম্পর্কে আমি খোঁজ নিয়েছি। মূলত শিক্ষার্থীসংখ্যা কম থাকায় এত দিন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব যায়নি। অচিরেই বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ভবন নির্মাণের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সব অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।