দীঘিনালার পাহাড়ে পাহাড়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৮

দীঘিনালার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত গরমে উঁচু পাহাড়-টিলার বাসিন্দারা পানির অভাবে পড়েছেন বেশি। সুপেয় পানিই নয়, দৈনন্দিন ব্যবহারের পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। ঝিরি-ঝরনার পানিও শুকিয়ে গেছে। কূয়ায় পানি আসছে না। উপজেলা সদরের আটমাইল, নয়মাইল, সীমানাপাড়া অনেক পাহাড়ি গ্রামে পানির অভাবে দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে। সারা দিন জুমচাষে ব্যস্ত থাকা জুমিয়ারা এখন দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করছে পানি সংগ্রহে। দূর পাহাড়ি গ্রামগুলোর মানুষের এখন চিন্তা একটাই ‘পানি আর পানি।’ কারণ আগের মতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। পানির উত্সগুলো অনেকটা মৃত। বর্তমানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া পানি সংগ্রহ করছেন স্থানীয়রা। আগে গভীর পাহাড়-জঙ্গলের ঝিরি-ঝরনায় পানি মিললেও এবার তাও নেই। পানির প্রধানতম উত্স ছড়া-খালগুলোতে অল্পগু পানি থাকলেও তা দূষিত। তাই তো রাত পোহালেই পানির খোঁজে ছুটতে হয় তাদের। কেবল তাই নয়, এখন রাত অবধি এক কলসি পানির জন্য অপেক্ষা করেন অনেকে। এটি দীঘিনালার অধিকাংশ উঁচু পাহাড়ি গ্রামের চিত্র। তবে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের আশপাশের আটমাইল, সীমানাপাড়া, নয়মাইল, চারমাইলসহ কয়েকটি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট। পানির অভাবে অনেকে সপ্তাহে একবার গোসল করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মূলত এসব এলাকায় হাতেগোনা টিউবওয়েল থাকলেও পানি ওঠে না।

নয়মাইল জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অপু ত্রিপুরা জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরাও পানির সংকটে কষ্ট পাচ্ছেন। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি বিকল্প পানির ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানান। সম্প্রতি সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ঐ এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম জানান, কীভাবে পাহাড়ে সহজে পানি পাওয়া যায় সে ব্যাপারে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাথুরে পাহাড় হওয়ায় টিউবওয়েল বসিয়েও পানি উঠছে না। অবশ্য কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. মুন্সী রাশীদ আহমদ, জানান, মূলত বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলায় দিনে দিনে পানির সংকট তীব্র হচ্ছে। তারা এখনই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সংকটাপন্ন এলাকায় জরুরিভিত্তিতে পানির ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে পানির দুষ্প্রাপ্যতা দূরীকরণে এখনই কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা দরকার বলে মনে করেন গবেষকরা।