ঘাঘট নদের ভাঙন

অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি বিলীন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৮

সাদুল্লাপুর উপজেলায় ঘাঘট নদের ভাঙনে গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে আরো শতাধিক বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা এসব তথ্য জানান।

জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে পঞ্চম দফা বন্যার পর সম্প্রতি নদের পানি কমতে থাকায় এই ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া), নলডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর, দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা ও কামারপাড়া ইউনিয়নের পুরানলক্ষ্মীপুর গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল তার ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া) নামকস্থানে নদীভাঙন পরিদর্শনে যান। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল জানান, এ ভাঙনের কবলে ইতিমধ্যে পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়ার (উত্তরপাড়া) খবির উদ্দিন, জরিপ মিয়া ও দফির উদ্দিনসহ আরো ১০ জনের ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীর পেটে। একইসঙ্গে ফসলি জমিও বিলীন হয়েছে অনেকের। এ ছাড়া সাহেব উদ্দিন, আফছার আলী ও সামাদ মুন্সীর বাড়িসহ আরো অন্তত শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। এ সব পরিবারের মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে অন্যত্র। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

নদীভাঙনে নিঃস্ব পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (উত্তরপাড়া) জরিপ মিয়া জানান, এ পর্যন্ত কেউ তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত একই গ্রামের খবির উদ্দিন নামের অপর এক বৃদ্ধ বলেন, এরই মধ্যে ঘাঘট নদের ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে আসছি। একই গ্রামের সফুরা বেওয়া নামের আরেক বৃদ্ধা বলেন, ঘাঘট ভাঙনের তাণ্ডবে ঝুঁকিতে রয়েছে বসতবাড়ি। দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের ফুল মিয়া জানান ইতিমধ্যে তার এক বিঘা জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই আবাদি জমিটুকু দিয়ে তার পরিবারের খাদ্যের যোগান হত।  এখন তা ঘাঘটের পেটে।

কামারপাড়া ইউপির পুরানলক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত গোলজার রহমানের স্ত্রী সত্তরোর্ধ্ব আমিনা বেগম জানান, বাড়িঘর ভেঙে এখন নদের পেটে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদের ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই জন্য প্রাথমিক জরিপ কাজ চলমান আছে। জরিপ শেষে প্রকল্প প্রণয়ন করে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে শিগিগর পাঠানো হবে।