তাইওয়ানে ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৭

অবশেষে তাইওয়ানের কাছে ১৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এতে করে চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরো এক ধাপ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কেননা চীন সবসময়ই তাইওয়ানকে তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করে। এ ঘটনায় চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তাইওয়ানে তিন ধরনের অস্ত্র বিক্রি করা হবে। সেগুলো হচ্ছে—রকেট লঞ্চার, সেন্সরস ও আর্টিলারি। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। সঙ্গত কারণে তাইওয়ান এই অস্ত্র ক্রয়ের বিষয়কে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে কিংবা চীনের সঙ্গে কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। এটা পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ কারণে করা হয়েছে। কাজেই একে রাজনৈতিক কোনো ভিন্ন উদ্দেশ্যে দেখার সুযোগ নেই। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েন ডে ফা বলেছেন, সামরিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে এই চুক্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বহিঃশক্তির মোকাবিলা করাই আমারদেরে মুখ্য উদ্দেশ্য। চীনের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর ১৯৪৯ সালে তাইওয়ান চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ বিচ্ছিন্নতা না মেনে তাইওয়ানকে নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে চীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভূখণ্ড ফিরে পেতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করে দেয়নি বেইজিং। এদিকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, এটি সম্পূর্ণভাবে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। শুধু তা-ই নয়, এটি তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা স্বার্থকে বিঘ্নিত করছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও ব্রায়েন বলেন, তাইওয়ানে আক্রমণের জন্য চীন প্রস্তুত বলে মনে করেন না তিনি। তবে ভবিষ্যতের জন্য দ্বীপটিকে নিজেদের শক্তিশালী করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেনা এসব অস্ত্র বিশ্বাসযোগ্য লড়াইয়ের সক্ষমতা তৈরি এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ যুদ্ধের উন্নয়নকে দৃঢ় করবে। চুক্তি অনুযায়ী, টার্গেটে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল ১৩৫, যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত থাকতে সক্ষম মোবাইল লাইট রকেট লঞ্চার ও এয়ার রিকনেইস্যান্স পড কিনবে তাইওয়ান। গত কয়েক মাস ধরে তাইওয়ানে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ব্যাপক বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার একজন রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বাস্থ্য ও মানব সেবাবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার গত আগস্টে তাইওয়ান সফরে যান।

সেসময় এই দ্বীপ ভূখণ্ডের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ওই প্রতিনিধি সাক্ষাত্ করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় চীন। একই সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের গুরুতর ক্ষতি এড়াতে তাইওয়ানের স্বাধীনতার ইস্যুতে ওয়াশিংটনের কোনো ভুল সংকেত দেওয়া উচিত হবে না বলেও সতর্ক করে দেয় বেইজিং। তাইওয়ানের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় চীন সামরিক মহড়াও বৃদ্ধি করে।