সরকার আলুর দাম ভোক্তা পর্যায়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও এর বাস্তবায়ন নেই আলু উত্পাদনের শীর্ষ অঞ্চল মুন্সীগঞ্জে। বুধবার জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে আলু বিক্রি হতে দেখা গেছে। মজুত আলুও ৫০ কেজির বস্তা ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জেলায় এবার প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টন আলু হয়েছে। সংরক্ষিত বেশির ভাগের আলুর মালিক এখন মধ্যস্বত্বভোগী। অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেট করে আলুর দাম বাড়ানো হলেও এখন কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমানো হয়েছে। এর আগে ৪৫/৫০ টাকায় এমনকি ৫৫ টাকায়ও এক কেজি আলু বিক্রি হয়েছে। আলুর চড়া এ মূল্যে কৃষক তেমন লাভবান হয়নি। এখন লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।
লৌহজং হলদিয়া গ্রামের কৃষক মো. মাওলা জানান, গেল বছরও মুন্সীগঞ্জের কৃষক আলুর দাম না পেয়ে বস্তায় বস্তায় আলু রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আর এ বছর ৪৫/৫০ টাকা দরে আলু খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন হিমাগারে খবর নিয়ে জানা যায়, হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত আলু মজুত রয়েছে, সেখান থেকে আলু বেচাকেনা হচ্ছে। পাইকারি দরে এখানে আলু ৩৫/৩৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে আর সেই আলু খুচরা বাজারে ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে আলু সংরক্ষণ ও বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মুনাফার পর পাইকারি পর্যায়ে ২৫ এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন আলুর দাম বাড়তির দিকে থাকায় আলুর বেচাবিক্রি কমে গেছে। ফলে তারাও আছেন বিপাকে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেশে সবচেয়ে সহজলভ্য এই পণ্যটির দাম বাড়তে বাড়তে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, কারণ ছাড়াই আলুর দাম আকস্মিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের হিমাগারগুলোতে পর্যাপ্ত আলু সংরক্ষিত আছে। তার পরও আলুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী। আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। মুন্সীগঞ্জে সচল ৬৬টি হিমাগারে সোয়া ২ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত আছে।
