২২ হাজার ৭৬৪ উদ্যোক্তার মধ্যে নারী ১১২৪ জন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২২:২০

করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত ১ লাখ কোটি টাকার প্যাকেজে খাতভিত্তিক বরাদ্দের ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষদ্র ও মাঝারি খাতের (এসএমই) জন্য বরাদ্দ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৮২ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ২৬ হাজার ৮৬৪ উদ্যোক্তা আবেদন করে ২২ হাজার ৭৬৬ জন ৪ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। যার মধ্যে নারী উদ্যোক্তা ১ হাজার ১২৪ জন। শতাংশের হিসেবে যা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই বরাদ্দ থেকে টাকা তোলা যাবে।

ইউমেন চেম্বার অ্যান্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি সংসদ সদস্য সালিমা আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সংবেদনশীল নয় ব্যাংকগুলোর কতিপয় সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তি। ঋণ পেতে পুরুষের চেয়ে বেশি শর্তপূরণ করতে হয় নারীদের। নারী ঋণ ফেরত দিতে পারবে না এমন ধারণাও রয়েছে। আসল কথা হচ্ছে, নারীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা ছোটখাটো কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা শুধরে তাকে ঋণ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখার মনোভাব নেই তাদের। তাহলে প্রায় ২৩ হাজারের মধ্যে পাঁচ হাজার নারী উদ্যোক্তা ঋণ পেতে পারতেন। কোভিড-১৯-মহামারিতে ক্ষতি থেকে বেরিয়ে আসতে নারীকে প্রস্তুত হতে হবে এমন কথা শোনা যায়। এই প্রস্তুতিতে কীভাবে দুর্যোগকালীন ঋণের আবেদন করতে হয়, সে বিষয়ে তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল।

উইমেন চেম্বারস অ্যান্ড কর্মাসের বর্তমান সদস্য ১৫ হাজার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, সমাজের দুস্থ ও বেকার নারীরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে প্রায় ২ কোটি নারী উদ্যোক্তা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী শিল্পোদ্যোক্তা ২৩ লাখ।

বহুজাতিক কোম্পানি মাস্টারকার্ডের নারী উদ্যোক্তা বিষয়ক এক জরিপের (২০১৭) তথ্য মতে, বাংলাদেশে বর্তমান উদ্যোক্তাদের মধ্যে ৩২ শতাংশ নারী। এ হিসাবে বিশ্বের ৫৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৬ নম্বরে। এই জরিপে বলা হয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে একজন নারীর দুটি সুবিধা পাওয়া জরুরি, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্থিক সহায়তা পাওয়া ও সহজে ব্যবসা করার পরিবেশ। এই দুটি মৌলিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে মাত্র ৩২, যা জরিপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। কম সুযোগ-সুবিধা পেয়েও বাংলাদেশের নারীরা বেশি হারে উদ্যোক্তা হচ্ছেন।

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার বিষয়ে ব্যাংকগুলোর মানসিক অনীহা আছে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ ও এসএমই ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সকল নারী উদ্যোক্তার ঋণ পাওয়ার কাগজপত্র নেই, দক্ষতা নেই ঢালাওভাবে তা বলা যাবে না। নারী উদ্যোক্তা সংগঠন এবং ব্যাংকগুলো ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি ঋণ গ্রহীতা কীভাবে টাকা ব্যয় করছে তা ব্যাংককে তদারকি করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময় আর কোভিড-১৯-এর সময় এক কথা নয়। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তা ব্যাংকে লেনদেন নাও করতে পারেন, তাই বলে তাকে ঋণ প্রাপ্তির অযোগ্য বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তাই এখন স্বাভাবিক সময়ের শর্তগুলো শিথিল করে ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানের ওপর জোর দেন এই অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এসএমই) মো. মোবারক হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরাও এই অভিযোগ পাই যে, নারী উদ্যোক্তারা ঋণ পান না। কিন্তু পাওয়ার দক্ষতা না থাকলে তাকে ঋণ দেওয়া হয় না। তারা ব্যবসা করে কিন্তু ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন করে না। এটা ঋণ প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স না করে ব্যবসা করেন। আবার সংগঠনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র কিছু না দিয়েই উদ্যোক্তাদের নামের তালিকা দেওয়া হয় ঋণের জন্য। এক্ষেত্রে যথাযথ আবেদন ও কাগজপত্র না থাকলে শুধু নামের তালিকা দেখে ব্যাংক ঋণ দেয় না।’