রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাতা সম্মেলন গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) যৌথভাবে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে চায় এবং অবশ্যই দ্রুততম সময়ে তাদেরকে ফিরে যেতে হবে।
রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বা তহবিল সংগ্রহ ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে আরো প্রায় ২০ কোটি ডলার (১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য এবং বাংলাদেশকে করোনা ভাইরাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড (৫২৭ কোটি টাকা) নতুন সহায়তার ঘোষণা করেছে। এছাড়া ইইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, এস্তোনিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছর রোহিঙ্গাদের মানবিক চাহিদা মেটানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ১০০ কোটি ডলার (সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা) এর বেশি তহবিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
দাতা সম্মেলন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার চক্র ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের এই সহিংসতা বন্ধে বিশেষ দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা রাখাইনে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করে যাবে। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন চায় যুক্তরাষ্ট্র। যাতে করে বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজের জন্মভূমিতে ফিরতে পারে।
যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের দুর্দশায় রেখে দূরে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সম্মেলনের আগে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেন, নির্যাতিত রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য বিশ্বকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।
