নেয়ামত উল্লাহ
আপনি তাকে পছন্দ করতে পারেন, চাইলে অপছন্দও করতে পারেন। কিন্তু সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? সে আলোচনায় এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো পেলে যে অবধারিতভাবে থাকবেন, তা অস্বীকার করার জো নেই। ফুটবলের ‘রাজা’ খ্যাত এই তারকা গতকাল ২৩ অক্টোবর জীবনের ৮০টি বসন্ত পেরিয়ে ৮১-তে পদার্পণ করেছেন।
পেলে নামে পরিচিত হলেও ব্রাজিল কিংবদন্তির জীবনের শুরুর দিকের নাম ছিল এডসন ডিকো। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে নামটা পালটে হয়ে গেলেন পেলে।
ফুটবলকে জীবনের ধ্রুবতারা করার দিনটাও ছিল খুবই হূদয়বিদারক। এক দিন বিকালে ফুটবল খেলে বাসায় ফিরে দেখেন বাবা দনদিনহো কাঁদছেন হাউমাউ করে। প্রিয় দল ব্রাজিল যে বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছে নিজেদের মাঠে! ১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই উরুগুয়ের কাছে ২-১ হারের পর বাবাকে বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ছোট্ট পেলে। এর আগ পর্যন্ত পাইলট হতে চাওয়া ছেলেটার ধ্যানজ্ঞানও ফুটবল হয়ে গেল এরপর থেকেই।
পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের দিনটাও ছিল তার ঔজ্জ্বল্য ছড়ানো। ১৯৫৬ সালে সাবেক ব্রাজিল স্ট্রাইকার ওয়ালদেমার দে ব্রিতো তার প্রতিভা দেখে নিয়ে যান সান্তোসে। সেখানে এক ঝলক অনুশীলনের পরই কোচ লুলা মূল দলে অভিষেক করিয়ে দেন তাকে। ১৫ বছর বয়সি পেলেও তা রাঙান গোল দিয়েই। পরের ১৮ বছরে সান্তোসকে আরো ২৫টি বড় শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি, যাতে আছে দুটো কোপা লিবার্তাদোরেস আর একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও।
অভিষেকের পর যখন রোশনাই ছড়াচ্ছিলেন দারুণভাবেই; ইন্টার মিলান, জুভেন্তাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের আগ্রহও বাড়ছিল তাকে নিয়ে। এ সময়ে ব্রাজিল সরকার পেলেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ব্রাজিল দলে ১০ নম্বর জার্সিটা অবশ্য পেয়েছিলেন কপালগুণেই। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল স্কোয়াড জমা দিলেও নম্বর উল্লেখ করতে ভুলে যায়। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের, তাতে খেলোয়াড়রা জায়গার হিসেব ছাড়াই নম্বর পান ফুটবলাররা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে আসা পেলে সেবারই পেয়ে যান মহামূল্যবান ১০ নম্বর জার্সিটা।
তারপর, বাকিটা তো ইতিহাসই! ১৭ বছর বয়সে করেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল। ব্রাজিলকে জিতিয়েছেন পরের দুটো বিশ্বকাপও। এমন কীর্তি নেই আর কারও।
এখানেই শেষ নয়, ১৯৬৯ সালে শুধু পেলে খেলবেন বলে নাইজেরিয়ায় থেমে গিয়েছিল গৃহযুদ্ধও। গ্রহের সর্বকালের সেরাদের একজন হতে গেলে তো চাই এমন কিছুই!
