হোসাইন আহমেদ অলিভ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কাল। সবাই ভয়ে ভয়ে আছে কখন যেন জাপান বোমা ফেলে বাংলাদেশে। ভয়ে থাকতে থাকতে একসময় মানুষের মনে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠল। কোথাকার কোন জার্মানি যুদ্ধ শুরু করেছে আর তার জন্য ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় আমাদের। হঠাত্ই দেশবাসী সিদ্ধান্ত নিল জার্মানের কোনো কিছু এই দেশে থাকতে দেওয়া চলবে না।
তখন এদেশের বিল-ঝিল আর মাঠে একরকম কচুরিপানা প্রচুর জন্মাত। স্থানীয় নাম ছিল ‘জার্মান কচুরিপানা’। নামের সঙ্গে জার্মান থাকার ফলেই কি না সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ল ঐ কচুরিপানার ওপর। নাহ! এই কচুরিপানাকে এদেশে থাকতে দেওয়া যাবে না। যেই ভাবা সেই কাজ! পূর্ণ উদ্যমে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ল এই কচুরিপানা নির্মূল করতে। সকাল সকাল কিশোর-যুবক সবাই মাঠে নেমে পড়ত। তারপর কচুরিপানা তুলে এনে শুকনো জায়গায় ডিবি দিয়ে রাখত শুকিয়ে মরার জন্য। আজ খবর আসে পশ্চিম পাড়ার সব জার্মান খতম। পরের দিন খবর আসে আরেক এলাকার। একসময় সারা দেশ থেকেই কমে যায় এই কচুরিপানা।
স্মরণকালে বাংলাদেশে ক্ষতিকর ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। এর কিছু আন্তর্জাতিক রাজনীতির ফল, কিছু এনজিওর লোভ আর মানুষের অজ্ঞতার ফল। কিন্তু এই গাছগুলো মাটির পানির স্তর নিচে থেকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে দেখা দিচ্ছে নানা দুর্যোগ। ঐসব গাছের আশেপাশে অন্য গাছ জন্মাতে না পারায় প্রাকৃতিকভাবে বেঁচে থাকা বিভিন্ন গাছ আজ বিলুপ্তপ্রায়! বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছেড়ে বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে ও বাতাসের তাপমাত্রা বাড়িয়ে গ্রিন হাউজ ইফেক্ট তৈরি করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে গাছগুলো নির্মূল করা প্রয়োজন। এই গাছগুলো কখনোই বাতাসে অক্সিজেন দেয় না। তাই এদের কেটে ফেলা বরং দেশের জন্য মঙ্গল। আশা কবর, জার্মান কচুরিপানা ধ্বংসে যে জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের বংশধরেরা একদিন নিজের জন্য, দেশের মানুষের জন্য এসব গাছ কাটা শুরু করে দেবে। বিভিন্ন দিক থেকে খবর আসবে—আজকে ঐ এলাকার সব ইউক্যালিপটাস খতম। আজকে এখানকার আকাশমনি নিশ্চিহ্ন।
ময়মনসিংহ
