নদীতীরে স্বজনদের আহাজারি
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
রাঙ্গাবালী উপজেলার কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌরুটে স্পিডবোট ডুবিতে নিখোঁজ পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ যাত্রীর সন্ধান এখনো মেলেনি। তাদের উদ্ধারে গতকাল দিনভর অভিযান চালিয়েছে কোস্টগার্ড ও পুলিশ। তবে ঘটনার এক রাত এক দিন অতিবাহিত হলেও তাদের খোঁজ না পাওয়ায় উত্কণ্ঠায় স্বজনরা।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন—রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ কনস্টেবল মহিবুল্লাহ (৪৫), কৃষি ব্যাংক বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫), বেসরকারি এনজিও আশার খালগোড়া শাখার ঋণ অফিসার হুমায়ুন কবির (৩০), গলাচিপার আমখোলার বাসিন্দা হাসান (৩৫) ও বাউফলের কনকদিয়ার বাসিন্দা ইমরান (৩৪)। হাসান ও ইমরান নির্মাণ শ্রমিক ।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার কোড়ালিয়া থেকে পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আহম্মেদ এন্টারপ্রাইজের যাত্রীবাহী স্পিডবোট আগুনমুখা নদীর মাঝামাঝি গিয়ে ঢেউয়ের তোড়ে তলা ফেটে যায়। এসময় ১৭ যাত্রী ও এক চালকসহ স্পিডবোটটি ডুবে যায়। দেড় ঘণ্টা পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে চালকসহ ১৩ জন যাত্রীকে অক্ষত উদ্ধার করা হলেও পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল সকাল থেকে আগুনমুখার তীরে স্বজনদের আহাজারি ও বিলাপে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছিল। তবে উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে।’ উদ্ধার হওয়া বাহেরচর কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেনসহ একাধিক যাত্রী বলেন, ‘তাদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি। নদীতে ঢেউ বাড়লে স্পিডবোট তীরে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ করলেও তা শোনেনি চালক।’ তবে স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের দাবি, নদী তখন স্বাভাবিক ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নৌপথ ছাড়া যোগাযোগের আর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তাদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই রুটে ফেরি চালু প্রয়োজন।’
স্পিডবোট কর্তৃপক্ষের অবহেলা: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তা উপেক্ষা করে ঐদিন স্পিডবোট চলাচল করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন প্রশাসন। গত ৬ জানুয়ারি দুটি স্পিডবোটের সংঘর্ষে দুজন মারা যায়।
