কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়ন ও
পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিংয়ের তাগিদ
মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ
ভালো নেই শ্রমজীবীরা। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, কর্মক্ষেত্রে বেতন কাটা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা, শহরে কাজের জায়গা কমে যাওয়া, অসংখ্য গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যাওয়া, করোনা পরিস্থিতিতে বাসাবাড়িতে গৃহশ্রমিকের কাজ চলে যাওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শহর ছাড়ছে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ। ফলে বেড়েছে বেকারত্ব, হতাশা-অস্থিরতা, অভাব আর অনৈতিক কার্যকলাপ—এমনটিই বলেছেন বিজ্ঞজন। তারা বলেন, এ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীসহ সারা দেশে।
সুন্দরগঞ্জের সুমি বেগম, রাজধানীতে একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতেন। তা বন্ধ হওয়ায় তাকে গ্রামে ফিরে যেতে হয়েছে। বাড়িতে তার স্বামী এখন তাকে খেতে দিতে রাজি নন। তার স্বামী রমজান মিয়া দিনমজুর। তিনিও এখন বেকার। সুমি বাবার বাড়িতে গেলে তারাও তার দায়িত্ব নিতে নারাজ। অসহায় সুমির এক বছরের সন্তান নিয়ে বড় কষ্টে দিন কাটছে। একজন মিউজিশিয়ান বলেন, তিনি কাজ করতেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। কিবোর্ড বাজিয়ে রোজগার করতেন। এখন সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায়, রাজধানী ছেড়ে তাকে গ্রামে চলে যেতে হয়েছে। এখন আয়-রোজগার তার নেই। চাকরি বলে গেছে রাইদ, বাসার ও মঈনের। অন্যদিকে শিক্ষার্থী পড়িয়ে উপার্জন করা শিক্ষার্থীরাও অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকরাও চাইছেন না বাসায় প্রাইভেট টিচার আসুক। অন্যদিকে তাহিরা সিদ্দিকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। করোনায় অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চাকরি চলে গেছে। বেকার অবস্থায় তিনি অনলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালু করলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না। তার থাকা-খাওয়াই চলছে না—এমন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন অসংখ্য কাজ হারানো শ্রমিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমজীবীরা এমনিতেই নাকাল। চাকরি হারা বা কম মজুরিতে জীবন চালাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এখন অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ দরকার। এটা দ্রুত করতে হবে। প্রণোদনা প্যাকেজ দ্রুত বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো বলেছে, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক শিল্পে এরই মধ্যে ৭০ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। আর অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীরা একেবারে কর্মহীন হয়ে রয়েছেন। শ্রমিক নেতা ওয়াজেদুল ইসলাম বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যে থমকে গেছে, তার চাপে গার্মন্টসসহ বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্পের শ্রমিকদের সংকট বাড়লেও তা সামাল দেওয়ার জন্য কার্যকর কোনো পরিকল্পনা তারা দেখছেন না। এদিকে কোভিডের কারণে আর্থিক ক্ষতিতে পড়া বাংলাদেশের ৩৪৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেছেন, করোনার কারণে শ্রমজীবী মানুষ যে অনিশ্চয়তায় পড়েছে, তাতে তাদের টিকে থাকার বিষয়টিই এখন একমাত্র ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এখন আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে শহরে অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের পরামর্শ দেন তিনি।
