সপ্তাহ না ঘুরতেই নববধূর লাশ
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
সাত দিন সুখের সংসার। এক শুক্রবারে বিয়ে পরের শুক্রবার মৃত্যু ! হাতে মেহেদির টকটকে লাল রং। মুখে নীল বিষ। সারা শরীরে ছড়িয়েছে সেই বিষ। সকলকে কাঁদিয়ে মৃত্যুকেই বেছে নিলেন নববধূ মুক্তা আক্তার। আড়াইহাজার উপজেলা হাসপাতাল থেকে ঢাকা নেওয়ার পথেই মুক্তা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিয়ে হয়েছে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। বৃহস্পতিবার তিনি স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে এসে রাতে বিষ পান করেন। হূদয় বিদারক এ ঘটনায় উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের কলান্দী বিলপাড় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে । বিভ্রান্তির বেড়াজালে পড়েছে থানা পুলিশ।
আড়াইহাজার থানার এসআই রিয়াজউদ্দিন জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা আক্তার। তার মা রহিমা বেগম এ জন্য কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কী কারণে মুক্তা বিষ পান করেছেন সে সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি। তিনি বলেন, মুক্তা তার স্বামী আল আমিনকে নিয়ে বৃহস্পতিবার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি আসে। সারা দিন তারা ছিল হাসি-খুশি। স্বামীর সঙ্গে মুক্তা নানান খুনসুটিও করেছে। তাদের বিয়ে হয়েছে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)। সবাই বলেছে ওরা সুখি দম্পতি। মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন হলেও ওরা একে অপরকে পছন্দ করত। দিন শেষে রাত ৮টা নাগাদ মুক্তা বিষ পান করে শুয়ে থাকে। স্বামী আল আমিন ঘরে ঢুকে এই অবস্থা দেখে ভড়কে যায়। সে সকলকে বিষয়টি জানায় । মুক্তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় ।
জানা গেছে, পারিবারিকভাবেই মাহমুদপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী বিলপাড় এলাকার প্রবাসী মো. সেলিম মিয়ার ছেলে আল আমিনের সঙ্গে ফতেহপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর এলাকার প্রবাসী মোক্তার হোসেনের মেয়ে মুক্তার বিয়ে হয়। আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত চলছে।
