মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণে’র প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, উপকরণ কেনার কথা বলে টাকা নেওয়া হলেও তাদের কোনো উপকরণ দেওয়া হচ্ছে না। প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় উপকরণ তাদেরই ব্যবস্থা করতে হয়। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে তিন মাস মেয়াদি ‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হয়। গত ১ অক্টোবর থেকে হরিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে চলতি ব্যাচের প্রশিক্ষণ। এতে দর্জিবিজ্ঞান ও বিউটিশিয়ান কোর্সে ২৫ জন করে ৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কয়েক জন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার কথা বলে ৪০০ টাকা করে নেওয়া হলেও তাদের কোনো উপকরণ দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় সব উপকরণ তাদের নিজেদেরই নিয়ে আসতে হয়।
বিউটিশিয়ান কোর্সের প্রশিক্ষক দোলনচাঁপা বলেন, ‘উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার নির্দেশে প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্য ৪০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। আমি এ পর্যন্ত ১৩ জনের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছি। প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার পর বেচে যাওয়া টাকা উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে ফেরত দিতে হবে। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা যেভাবে বলেছেন আমি শুধু তার নির্দেশ মতো কাজ করছি। ‘দর্জিবিজ্ঞান কোর্সের প্রশিক্ষক কামরুন নাহার বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র দেওয়া হয়, অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়; আরো অনেক খরচ আছে। সেজন্য টাকা নিতে হয়। আমি এ পর্যন্ত ১০ জনের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে নিয়েছি। এ টাকা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী নিচ্ছি।’
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মালা বড়াল বলেন, প্রশিক্ষকদের ৪০০ টাকা করে নেওয়ার কথা বলা হয়নি। যদি ৪০০ টাকা করে নিয়ে থাকে তাহলে দুই প্রশিক্ষক বেশি টাকা নিয়েছেন। তবে ভর্তি ফি বাবদ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বেশি টাকা নেওয়া হলে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানিকগঞ্জ জেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক নাসরীন সুলতানা জানান, ‘এ ধরনের কোর্সে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
