রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ফের আশ্বাস মিয়ানমারের

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে চীনকে আশ্বস্ত করেছে মিয়ানমার সরকার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে একথা জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে   চলেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে রোহিঙ্গাদের যাতে ফেরত নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে মিয়ানমার কাজ করবে বলে জানিয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবে বলে জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের পর প্রথমত রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ঢাকায় প্রস্তুতিমূলক সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক দ্রুত শুরু করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আলাপকালে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীনে উত্পাদিত টিকা বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবে। করোনা পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ও চীন এক সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। করোনা মহামারি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সাহায্য অব্যাহত থাকবে। করোনার কারণে চীনের যেসব প্রকল্প স্থগিত বা ধীরগতিতে এগোচ্ছে সেগুলো করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত শেষ করা হবে।

পিরোজপুরে চীনের নাগরিক হত্যার বিষয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হত্যার দ্রুত বিচারের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপের ওপর চীন সরকার আস্থাশীল। এ সময় ড. মোমেন বলেন, এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুই জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

করোনা মহামারির কারণে আটকা পড়া চীনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের ভিসা নবায়নের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। এ বিষয়ে ওয়াং ই জানান, বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের চীনে প্রবেশের বিষয়ে সেদেশের সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হবে। সেক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য বিষয়ের দ্রুত সমাধান হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বইটি চীনা ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগের বিষয়ে চীন সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. মোমেন।