আমন ধান নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
এম. আর সুনম, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সেচ প্রকল্প (সিআইপি) এলাকার ভেতরে রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার হেক্টর রোপা আমন ফসলি জমি পানির নিচে ডুবে গেছে। চাষিরা ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সোনাপুর গ্রামের শাহ আলম, রুহুল আমিন, চর আববিল গ্রামের খোরশেদ মনির আহমদ, চরপাতা গ্রামের পেয়ার আহমদ, চরবংশী গ্রামের নুরনবী, নুর হোসেনসহ স্থানীয় বহু কৃষক জানান, চলতি আমন মৌসুমে গত আগস্ট মাসেও বৃষ্টি হতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অনেক কৃষকের বীজতলা ও রোপা আমন খেত দুই দফা বিনষ্ট হয়েছে। ফের জলাবদ্ধতায় তৃতীয় দফা লাগানো আমন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঐ সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল, চরবংশী, চরমোহনা, চরপাতা, বামনী, সোনাপুরসহ ১০টি ইউনিয়নের বেশ কিছু নিচু জমি ও বিলে দুই-তিন ফুট পানি জমে আছে। আগাছা, শাপলা ও শেওলায় ভরে গেছে এসব জমি। দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের কৃষক আবদুর মোতালেব জানান, পানি প্রবাহের খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
চর আবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্যা বিএসসিসহ আরো চাঁর জন চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বেড়িবাঁধের ভেতরে অনেক খাল বেদখল হয়ে আছে। সিআইপির সম্প্রসারণ ওভারসিয়ার (এসও) আলমগীর হোসেন বলেন, ফসল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য দ্রুত গতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজীমারা স্লুইসগেট দিয়ে পানি বের করা হচ্ছে। পাশাপাশি চরবগাদি পাম্প হাউজের ১ হাজার ২০০ কিউসেকের ছয়টি পাম্প মেশিনে বিরতিহীনভাবে প্রকল্পের ভেতর থেকে পানি বের করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমন বলেন, চলতি মৌসুমে রায়পুর উপজেলায় ১১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে গভীর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে আমন উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পাউবোর কাজের সমন্বয় করা যাচ্ছে না।
সাঁথিয়ায় সবজি ও ধানের ক্ষতি
সাঁথিয়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত লাগাতার বৃষ্টির কারণে সাঁথিয়ার কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে। সবজির বীজতলা তৈরির কাজ চলছিল। এমন সময় অব্যাহত বৃষ্টিতে অনেক বীজতলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সাঁথিয়া উপজেলা উদ্ভীদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র জানান, বৃষ্টিতে কৃষকের শাকসবজি ও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে।
