বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বাগমারার বিভিন্ন হাটবাজারে আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েই চলেছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।
শুক্রবার ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর বাজারসহ বাগমারার বেশকিছু ছোট হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ ও আলুর দাম সেই লাগামহীন। এ দুটি পণ্যের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। পটোল, বেগুন, ঝিঙা, করোলা, ফুলকপিসহ যে সামান্য সবজি পাওয়া যাচ্ছে তাও ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি ছাড়াও চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন মসলাপাতির দাম বেড়েছে দফায় দফায়। ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, এক দিকে বন্যার কারণে স্থানীয় কৃষকরা তাদেরকে আগের মতো আর সবজি দিতে পারছেন না। কিন্তু বাজারে সবজির ব্যাপক চাহিদা থাকায় দাম বেড়েই চলেছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন মসলাপাতির দামও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। স্থানীয় অটোচালক আব্দুস সামাদ জানান, করোনার কারণে তাদের আয়-ইনকাম কমে গেছে। বাজারে পণ্যের দামেও আগুন। এদিকে টিসিবির পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয় লোকজনের। তারা বলছেন, টিসিবি যে পণ্য দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। স্বল্প আয়ের লোকজন টিসিবির পণ্যসেবার পরিসর আরো বাড়ানোর দাবি জানান। ভবানীগঞ্জের টিসিবির ডিলার সাইদুর রহমান জানান, জেলা সদরের একজন ডিলার সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন পণ্য বিক্রির সুযোগ পায় অথচ মফস্বল এলাকার ডিলাররা মাত্র দুই দিন পণ্য তুলতে পারে। তিনি মফস্বল এলাকায় টিসিবির পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় জেলা সদরের সমান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান। এসব বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ জানান, টিসিবির বরাদ্দের বিষয়ে আমরা কথা বলব। এটা আরো বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা হবে। আর হাটবাজারে কী কারণে দফায় দফায় বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এর জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হবে।
