বাতিল হলো বানেশ্বর বাজারের ‘ঢলনপ্রথা’

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ২১:১১

৪৮ কেজিতে ধরা হতো আমের মণ

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় ব্যবসাকেন্দ্র রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার। এখান থেকে সারা দেশে কৃষিপণ্য যায়। এই বাজারের ছিল নিজস্ব ওজনরীতি। সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ ধরা হলেও বানেশ্বর বাজারে আমের মণ ধরা হতো ৪৮ কেজিতে। পেঁয়াজের মণ ৪২ ও রসুনের ৪১ কেজিতে। এ বাজারের ব্যবসায়ীরা এক মণের দামে ৪০ কেজির ওপরে যেটুকু বেশি নেন, তার নাম দিয়েছেন ‘ঢলন’। বাজারের রীতি অনুযায়ী, কৃষক ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য থাকেন। শুক্রবার বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যবসায়ীদের এই ‘ঢলনপ্রথা’ বাতিল করেন। ফলে এ বাজারে আর আমের মণ ৪৮ কেজিতে হবে না। ব্যবসায়ীরা এত দিন কৃষকদের বুঝিয়েছেন কৃষিপণ্য ওজনের পরে কমে যায়। এ কারণে ‘ঢলন’ দিতেই হবে। এভাবে বানেশ্বর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ঢলনপ্রথা চালু আছে।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাষিরা। বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী সুলতানের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভুঁইয়াসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চাষিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চাষিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের এক মণে অতিরিক্ত কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে। দিতে না চাইলে পণ্য বিক্রি হতো না। তারা আড়তদারদের কাছে জিম্মি ছিলেন। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা এই ঢলনপ্রথা দীর্ঘদিন ধরে বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। উপজেলার শাহাবাজপুরের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ হলেও তিনি ৪২ কেজির মণ ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন।

মাড়িয়ার কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, তিনি রসুন বিক্রি করেছেন ৪১ কেজিতে মণ হিসেবে। ব্যবসায়ী বাবর আলী বলেন, বানেশ্বর বাজারে তিনি ৩৬ বছর ধরে আমের আড়তে ব্যবসা করেন। দুই বছর আগে ৪৫ কেজিতে মণ ধরা হচ্ছিল। এবার ব্যবসায়ীরা বসে ঠিক করেন ৪৮ কেজিতে মণ ধরতে। তিনি বলেন, কাঁচামাল ঢাকায় নেওয়ার পথে পচে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। এ জন্যই ঢলন নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, ব্যবসায়ীরা বানেশ্বর বাজার থেকে কৃষকের পণ্য কিনতে ঢলন নেন। কিন্তু ঐ পণ্য বাইরে নিয়ে বিক্রি করার সময় তাদের আর ঢলন দিতে হয় না। এখানে ৪৮ কেজিতে মণ ধরে তারা আম কেনেন। কিন্তু ঢাকায় নিয়ে ৪০ কেজিতে মণ হিসেবেই বিক্রি করেন। যেহেতু তারা ঢাকায় গিয়ে ঢলন দেন না। তাই ব্যবসায়ীরা বানেশ্বরেও ৪০ কেজিতে মণ ধরে সব কৃষিপণ্য কিনবেন। এই ওজন নিশ্চিত করতে শনিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকছে। পুঠিয়ার সব বাজারেই যাতে এই ওজন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হবে। তিনি বলেন, অল্প দিন আগেই তিনি পুঠিয়ায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে গিয়েই চাষিদের কাছ থেকে এই অভিযোগ শোনেন। চাষিরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন।