অর্থনীতির সঙ্গে সামাজিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দিতে হবে

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৯

সানেমের আলোচনায় বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামাজিক পুনরুদ্ধারে মনোযোগী হতে হবে। প্রবৃদ্ধি অর্জনের সংখ্যাগত অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান, আয়, দারিদ্র্য, অসাম্য কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম আয়োজিত নেটিজেন ফোরামে বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল শনিবার সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানের পরিচালনায় আলোচনায় জুমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ‘অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ’ শীর্ষক এই ভার্চুয়াল আলোচনায় ড. সায়মা হক বিদিশা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, উত্পাদনশীল কাজের কারণে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রবৃদ্ধির সুফল কি সবাই পাচ্ছে কি না তা নিয়ে আলোচনা হতে হবে। মানুষের কর্মসংস্থান, আয়, দারিদ্র্য, অসাম্য এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যাগত প্রবৃদ্ধির দিকে লক্ষ্য না রেখে অন্তর্ভুক্তির দিকে বেশি লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রবৃদ্ধি ছাড়াও অন্যান্য সূচক, যা দেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরে, সেগুলো বিবেচনায় আনতে হবে।

আইএমএফের প্রাক্কলন রয়েছে এ বছর ভারতের তুলনার বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বেশি হবে। ভারতের অর্থনৈতিক আকার, জনসংখ্যা ইত্যাদি বিবেচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রে সার্বিক চিত্রটি দেখতে হবে, শুধু একটি দুটি সংখ্যা তুলনা করলে হবে না।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামাজিক পুনরুদ্ধার সমান্তরালভাবে হচ্ছে কি না সেটি খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রবাসী আয় পরিবারগুলোতে অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী হিসেবে কাজ করেছে। তবে এই প্রভাব অর্থনীতির অন্যান্য খাতগুলোতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারছে কি না, সেটি দেখার সময় এসেছে। তিনি আরো বলেন, শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের বিকল্প নেই। প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক লক্ষ্য থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ধরে এগোতে হবে।