ফুটবলারদের অনুশীলন শুরু

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৫

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

মাসের পর মাস মাঠ হতে দূরে ছিলেন ফুটবলাররা। ঘরে বসে দড়িলাফ আর মাঝেমধ্যে জিমে গিয়ে একটু সময় দেওয়ার মধ্যে কতটুকই বা উন্নতি করা যায়। ফুটবল মাঠের অনুশীলনের ঘাটতি তো থেকেই যায়। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের সেশনে গিয়ে জাতীয় দলের ফুটবলার রহমত মিয়া রাখঢাক না করেই বললেন, ‘আসলে করোনার প্রথম দিকে আমরা ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। আর যখন পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়েছে তখন আমরা জিমে যাওয়া শুরু করি।’ এত দিন পর আবার অনুশীলন—এতে শরীরের ওপর কোনো চাপ পড়ছে কি না—এমন প্রশ্নে রহমত বললেন, ‘আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা একটা হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে ছিলাম। রুটিন দেওয়া ছিল সেভাবে ফিট থাকার চেষ্টা করেছি। ট্রেডমিল করেছি।’

নিজেরা যতই বলুক তারা ফিট আছেন, সেটা মানতে রাজি না কোচিং স্টাফরা। জাতীয় দলের ক্যাম্পে ঢোকার পর এখন খেলোয়াড়দের ফিটনেস কতটুকু আছে সেটা পরীক্ষা করতেই কুপার টেস্ট শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের ফিজিও ফুয়াদ হাসান হাওলাদার সবার কুপার টেস্ট নিচ্ছেন। ফিটনেস টেস্টের মধ্যে থাকছে স্পিড, হার্টব্রিদিং, এরোবিক, এন্ডুরেন্স আরো অনেক কিছু রয়েছে কুপার টেস্টের প্রক্রিয়ায়। এটা টানা ১২ মিনিটের লড়াই। টেস্ট রেজাল্ট এখনই জানা যাবে না। ফুয়াদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের একটা সেশন দিয়েছিলাম। ১২ মিনিটের পরীক্ষা। যেখানে শরীরের কন্ডিশনটা জানা যাবে। কোন লেভেলে রয়েছে।’    

নেপালের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য ৩৬ ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখান থেকে বসুন্ধরা কিংসের ১৪ জনের মধ্যে ২ ফুটবলার মাসুক মিয়া জনি এবং মতিন মিয়াকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এই দুই ফুটবলার চোট-পরবর্তী রিকভারি করছেন। এখনই মাঠে নামা ঠিক হবে না। জনি এবং মতিনের পরিবর্তে নতুন খেলোয়াড় নেওয়ার প্রশ্ন উঠলেও জেমি সায় দেননি। বাফুফে হতে মতিন ও জনির পরিবর্তে বিকল্প খেলোয়াড়ের নাম চাওয়া হয়েছিল। জেমি না করে দিয়েছেন। ৩৪ ফুটবলার নিয়ে ক্যাম্প চলবে। ক্যাম্পে এখন ১৬ ফুটবলার রয়েছেন। কোচ জেমি ডে, অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ২৯ নভেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন। তার আগে অন্য সব খেলোয়াড় ক্যাম্পে ঢুকে পড়বেন। তারপরই ১৩ এবং ১৭ নভেম্বর নেপালের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচের চূড়ান্ত পরিকল্পনা। সেই ম্যাচ নিয়ে আজ বাফুফে এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনলাইন মিটিং আছে। ৫ নভেম্বর নেপালের ঢাকায় আসার কথা থাকলেও চূড়ান্ত হবে আজ, সঙ্গে জানা যাবে দর্শক মাঠে ঢুকতে পারবেন কি না।