মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতা
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রভাবশালী সুদ ব্যবসায়ী দুই সহোদরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টায় আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করে আদিবাসী এক পরিবার পাঁচ দিন ধরে বাড়িছাড়া। ঐ আদিবাসী পল্লির নিয়তী রানী, লক্ষ্মী রানী, স্বপন সরকার, গোপাল কুমার জানান, আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে ঐ পরিবারকে হুমকিধমকি অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের। জীবনের ভয়ে ঐ পরিবারের তিন সদস্য পাঁচ দিন থেকে নওগাঁ শহরে এসে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন।
মামলা এবং ভুক্তভোগী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের আদিবাসী বিধবা নারী একাই বাড়িতে রয়েছেন। তার দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন। তার বাড়ির রাস্তার পশ্চিম পাশে পবাতৈড় গ্রামের মৃত মোসলেমের ছেলে আজাদুল ইসলাম ওরফে জারদেশ (৩৫) বিভিন্নভাবে ঐ বিধবাকে উত্ত্যক্ত ও কপ্রস্তাব দিত।
গত ৩ জুন রাত ১০টার দিকে বিধবা প্রকৃতির ডাকে বাড়ির বাইরে গেলে গোপনে আজাদুল ঘরে ঢুকে। পরে বিধবা ঘরে আসলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার ডাক-চিত্কারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আজাদুলকে আটক করে। বিষয়টি তার ভাই একরামুল (৪০) হক জানার পর লোকজন নিয়ে এসে আজাদুলকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
বিধবা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবগত করলে আজ নয়, কাল বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এরপর থানায় মামলা করার জন্য কয়েকদিন ঘুরেও মামলা করতে না পারায় অবশেষে গত ৩০ জুলাই বিধবা বাদী হয়ে নওগাঁ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দুই ভাইকে আসামি করে মামলা করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর আসামিরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে ঐ বিধবার পরিবারকে হুমকিধমকি অব্যাহত রেখেছে।
অভিযুক্ত একরামুল হক বলেন, ঐ পরিবারের কাছে ৭০ হাজার টাকা পেতাম। তারা টাকা না দিতে বিভিন্নভাবে পাঁয়তারা করছে। ঐ পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
