৬০ বছর ধরে বিচারাঙ্গনে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন রফিক-উল হক

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২০, ২৩:১৮

আইন অঙ্গনের নক্ষত্র ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিচারপতি, আইনজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ। গতকাল শনিবার দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, রফিক-উল হক ছিলেন একজন বিশাল মহীরুহ। তিনি গত ৬০ বছর ধরে আইন ও বিচারাঙ্গনে যে ছায়া দিয়ে রেখেছিলেন, তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো। আমি গর্ববোধ করি তার ছাত্র হিসেবে। দোয়া করি  আল্লাহতায়ালা উনাকে জান্নাত দান করুন। তিনি বলেন, রফিক-উল হক ছিলেন নিজেই ইতিহাস। বাংলাদেশের আইনের ইতিহাসে উনি একজন আইকন। আমি উনার সরাসরি ছাত্র ছিলাম। আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। মামলার পেছনে তার পরিশ্রম তুলনাহীন। নানাভাবে তার সঙ্গে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ ও সৌভাগ্য হয়েছে। অনেককে হারাতে পারলেও তাকে কখনো হারাতে পারিনি।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, উনি অত্যন্ত প্রতিভাবান, জ্ঞানী, বিনয়ী ও সংবেদনশীল মানুষ ছিলেন। তার জীবদ্দশায় নিঃস্বার্থভাবে উনি অকাতরে অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে দান করে গেছেন। উনি যতদিন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ততদিন তিনি এই অফিসের মানমর্যাদা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রেখেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দেশের মানুষের কাছে সত্ হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, নিজ কর্মগুণেই     উনি দেশের মানুষের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, উনি বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন। তার এই চলে যাওয়া আইন অঙ্গনে গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান সকলেই স্মরণ করবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আইন অঙ্গনের পথিকৃত ছিলেন উনি। তার এই চলে যাওয়া আগামী ৫০ বছরে পূরণ হবে কি না, জানি না। একজন আইনজীবীর যে গুণ থাকা দরকার তার সবই ছিল তার।

অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, স্যার আমাকে সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। একজন জুনিয়রকে যে এভাবে ভালোবাসা যায়, সেটা তিনি আমার ক্ষেত্রে করে দেখিয়েছেন। উনার মৃত্যুতে আমি একজন অভিভাবক হারালাম। আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্যারের অবদান জাতি সবসময় স্মরণ করবে।

অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, স্যার অত্যন্ত শাসন করতেন। সাহসী মানুষ ছিলেন। স্নেহ ও আদরে ছিলেন অতুলনীয়। দানবীর হিসেবে তার অবদান সর্বজন স্বীকৃত। ১/১১ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা সাহসের সঙ্গে পরিচালনা করে মুক্ত করেন নেত্রীকে। রাজনীতিবিদ না হয়েও রাজনীতির নিয়ামক হয়ে উঠেন তিনি।