মাহিমা ইউসুফ তারানা
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ
৩৭। ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কী?
উত্তর: ভূ-ত্বকের নিচের অংশে তেজস্ক্রিয় পদার্থেগুলোর বিচ্ছুরিত তাপের ফলে ভূ-ত্বকের বিভিন্ন স্থানে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
৩৮। ভূমিকম্পের কেন্দ্র (Focus) কাকে বলে?
উত্তর: ভূ-অভ্যন্তরে যে স্থানে ভূমিকম্পের উত্পত্তি হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে।
৩৯। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ( Epicenter) কী?
উত্তর: ভূমিকম্পের কেন্দ্রের ঠিক সোজাসুজি উপরের ভূ-পৃষ্ঠের নাম উপকেন্দ্র।
৪০। টেকটনিক প্লেট কোনগুলো?
উত্তর: ভূ-ত্বক ৮টি বড়বড় টুকরো এবং ছয়টি আঞ্চলিক টুকরো দ্বারা বিভক্ত। এগুলোকেই টেকটনিক প্লেট বলে।
৪১। ভূমিকম্পের কারণসমূহ কী কী?
উত্তর: ভূমিকম্পের অন্যতম কারণ হল টেকটনিক প্লেটের স্থানান্তর। অন্যান্য কারণগুলো হল -
১) ভিত্তিশিলা চ্যুতি বা ফাটল বরাবর আকস্মিক আলোড়ন।
২) আগ্নেয়গিরির লাভা প্রচণ্ড শক্তিতে ভূ-অভ্যন্তর থেকে বের হয়ে আসা।
৩) ভূ-ত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হলে।
৪)ভূ-ত্বকের শিলাচ্যুতির কারণে।
৫) টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে।
৪২। সুনামি কাকে বলে?
উত্তর: ভূমিকম্পের ধাক্কায় সমুদ্রের পানি তীর থেকে নিচে নেমে যায় এবং পরক্ষণেই ভীষণ গর্জন সহকারে ১৫-২০ মিটার উচু হয়ে ঢেউয়ের আকারে উপকূলে এসে আছড়ে পড়ে। এ ধরনের জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে।
৪৩। ভূমিকম্পের ফলে কী ধরনের ভূ-পরিবর্তন সৃষ্টি হয়?
উত্তর:
১) ভূত্বকে অসংখ্য ফাটল এবং চ্যুতির সৃষ্টি হয়।
২) সমুদ্রতলের অনেক স্থান উপরে ভেসে ওঠে।
৩) নদীর গতি পরিবর্তিত বা বন্ধ হয়ে যায়।
৪) পর্বতগাত্র থেকে বৃহত্ বরফখণ্ড নিচে পতিত হয় এবং পাদদেশে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
৫) সমুদ্রে দ্বীপের সৃষ্টি হয়। আবার উচ্চভূমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়।
৪৪। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় কী কী পদক্ষেপ নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব?
উত্তর:
১) বাড়ি তৈরির সময় মাটি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ নেয়া।
২) দুটো বাড়ির মাঝে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
৩) বাড়ি থেকে বের হওয়ার একাধিক পথ থাকতে হবে।
৪) বহুতল ভবনে জরুরী সিঁড়ি রাখতে হবে।
৫) বিদ্যুত্ ও গ্যাসের লাইন ত্রুটি মুক্ত রাখতে হবে।
৪৫। বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্রধানত কতটি ও কোনগুলো?
উত্তর: বিশ্বে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্রধানত তিনটি।
১) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল।
২) ভূমধ্যসাগরীয় - হিমালয় অঞ্চল।
৩) মধ্য আটলান্টিক-ভারত মহাসাগরীয় শৈলশিরা অংশ।
