ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েই চলেছে কিশোর অপরাধের মাত্রা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও বেড়ে চলেছে কিশোর অপরাধের মাত্রা। জেলায় গত এক বছরে নানা অপরাধের দায়ে মামলা হয়েছে ৪১ জন কিশোর-কিশোরীর বিরুদ্ধে। এ সকল মামলায় অনেকে পলাতক থাকলেও অধিকাংশ কিশোর-কিশোরীরা জামিনে রয়েছেন।  আবার  অনেককেই পাঠানো হয়েছে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে। জেলা পুলিশের তথ্য মতে, গত এক বছরে জেলায় হত্যা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ ৪১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ১১টি, কসবা থানায় সাতটি, নবীনগর থানায় পাঁচটি, নাসিরনগর থানায় দুইটি, সরাইল থানায় সাতটি, বিজয়নগর থানায় সাতটি ও আখাউড়া থানায় দুইটি। এসব অপরাধে জড়িত ৩১ জন কিশোর জামিনে আছে। কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে ছয় জন রয়েছে। এদের মধ্যে একজন কিশোর রায়হান (১৫)। ২০২০ সালের ২৫ শে মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মৈন্দ গ্রামে তিন বছরের এক শিশুকে ১০ টাকার লোভ দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ঐ শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ দিকে একই উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের মীরহাটি গ্রামে ১৪ বছর বয়সের কিশোর সুমন প্রতিবেশী আট বছরের এক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠায়। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঐ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

অপর এক  কিশোরী তানিয়া (১৫)। পারিবারিক কলহের জের ধরে খুন করে নিজ মাকে। গেল ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর নিজ ঘরেই বটি দা দিয়ে জবাই করে। ঘটনার শুরুতে বিষয়টি আত্মহত্যা মনে হলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে কিশোরীর হাতে মায়ের হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর এই বিষয়টি। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ধর্মজিত সিংহের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঐ কিশোরী বর্তমানে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। মূলত ছেলে হারানো মায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন আচরণে বিরক্ত হয়েই তানিয়া তার মাকে হত্যা করে। একাধিক অভিভাবক জানান, যে হারে কিশোর অপরাধ বাড়ছে তা আমাদের চিন্তিত করে তুলছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিশু নাট্যমের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোহাম্মদ খান বিটু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তত্পরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো তত্পরতা নেই। সচেতন নাগরিক কমিটির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহসভাপতি আব্দুন নূর বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহার ও স্মার্ট ফোন এখন কিশোর কিশোরীদের বিপত্গামী হওয়ার একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারিবারিকভাবে তেমন একটা নজরদারি করা হচ্ছে না। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ক্রিড়া ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নেই। ফলে  কিশোর-কিশোরীরা মোবাইলের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কিশোর অপরাধের তিনটি দিক রয়েছে সামাজিক, মনস্তাত্তিক ও আইনগত। এ ঘটনাগুলো বাড়ার পিছনে যে দৃষ্টিভঙ্গিগুলো লক্ষ্য করা যায় তা হলো কিশোর অপরাধের যথাযথ বিচার হচ্ছে না। যা তাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে অনুপ্রাণিত করছে। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, কিশোররা যদি অপরাধে জড়িয়ে যায় সমাজের বড় একটা অংশ অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। আইনের পাশাপাশি পারিবারিক অনুশাসন বৃদ্ধি করে সকলে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালালে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।