কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৮

অর্থবছরের প্রথম তিন মাস

রেজাউল হক কৌশিক

গত অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। মূলত করোনার প্রকোপের কারণেই কৃষিঋণ বিতরণ ব্যাপকহারে কমে যায়। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কৃষিঋণ বিতরণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। এ তিন মাসে ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। অর্থাত্ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এটি ৩২ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষি খাতে মোট বিতরণ হওয়া ঋণের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। আর ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলো।

চলতি অর্থবছরে (২০২০-২১) ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছে ব্যাংকগুলো। যা গেল অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেশি। ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক ঋণ বিতরণ করবে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে ১৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। আলোচ্য তিন মাসে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ দশমিক ৮২ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে।

করোনার প্রাদুর্ভাবেও সচল ছিল দেশের কৃষি খাতের উত্পাদন। তাই মহামারিতে ঋণ বেশি প্রয়োজন ছিল কৃষকের। কিন্তু ব্যাংকগুলো তাদের সঠিক সময় ঋণসহায়তা দেয়নি। ফলে প্রথমবারের মতো কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এরপর সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে ব্যাংকগুলো আবার কৃষিঋণ বিতরণ শুরু করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট ৩০ লাখ ৬৬ হাজার ৭৮৬ জন কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন নারী প্রায় ৮ হাজার ৩৫৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন। আলোচিত সময়ে ২৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮৮ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৭ হাজার ১৭৯ জন কৃষক প্রায় ২১ কোটি ২১ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লিঋণ পেয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষিঋণ আদায়ও বেড়েছে। এ সময়ে ৬ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের বছরের স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে আদায় হয়েছিল ১০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। টাকার অংকে যার পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৩৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর এ সময়ে কৃষিখাতে ব্যাংকগুলোর পুঞ্জীভূত ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির সংকটে কৃষিখাতকে সর্বাত্মকভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কৃষিখাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালিত হচ্ছে। কৃষিখাতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর জন্য আগামী একবছর সুদভর্তুকি দেবে সরকার।

শস্য ও ফসল চাষে কৃষক পর্যায়ে গত এপ্রিল থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সুদহার ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার এ ঋণ যথাসময়ে বিতরণ না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর জন্য বিতরণের সময় বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো এ ঋণ বিতরণ করতে পারবে বলে গত মাসে ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগে এ সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।