বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ
জান-ই-আলম
স্ট্যান্ড বাই তালিকায় ছিলেন সুমন খান। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে হাসান মাহমুদ ছিটকে গেলে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলার সুযোগ পান তিনি। এইচপি স্কোয়াডের এই পেসার দুই ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। যেন সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলেন ফাইনালের জন্য! গতকাল ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় মঞ্চ রাঙালেন মানিকগঞ্জের ছেলে সুমন খান। নিজের আবির্ভাবের খবর দেওয়ার দিনে দলকে গড়ে দিয়েছেন ট্রফি জয়ের ভিত।
লিগ পর্বে দুই ম্যাচেই নাজমুল একাদশের কাছে হেরে যাওয়া মাহমুদউল্লাহ বাহিনী গতকাল তৃতীয় সাক্ষাতে আর ভুল করেনি। পেসারদের দাপুটে বোলিংয়ের পর ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ট্রফি জয়ের মিশন সম্পন্ন করেছে দলটি। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে ফাইনালে নাজমুল একাদশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ট্রফি জিতেছে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। এর মাধ্যমেই করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সফলভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজনের নজির গড়ল বিসিবি।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে সুমন খানের বোলিং তোপে ৪৭.১ ওভারে ১৭৩ রানে অলআউট হয়েছিল নাজমুল একাদশ। জবাবে ২৯.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সুমন খান। ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার পান মুশফিক, সেরা ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর, সেরা বোলার রুবেল, সেরা ফিল্ডার নুরুল হাসান সোহান।
রান তাড়ার মিশনটা অনায়াসেই শেষ করেছে মাহমুদউল্লাহর দল। লিটনের হাফ সেঞ্চুরি এনে দিয়েছে দারুণ শুরু। ১০টি চারে ৬৮ রান করে ফিরেন লিটন। পরে ইমরুল ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। ইমরুল অপরাজিত ৫৩, মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ২৩ রান করেন। নাসুম আহমেদ ২টি উইকেট পান।
এর আগে ইনিংসের প্রথম ওভারে সাইফ হাসানকে (৪) ফেরান রুবেল। চোখে কিছু পড়ায় অবসর নিয়ে সৌম্য ড্রেসিংরুমে ফেরায় উইকেটে আসেন ইনফর্ম মুশফিক। তার পরই সুমনের বোলিং ঝড়। তার শিকার তালিকায় আছেন মুশফিকুর রহিম, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ধ্রুব, নাঈম হাসান ও নাসুম আহমেদ। রুবেলের পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এই টুর্নামেন্টে ৫ উইকেট পেলেন সুমন খান। ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর ৬ষ্ঠ উইকেটে ইরফান শুক্কুর-তৌহিদ হূদয় ৭০ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। তৌহিদ হূদয় ২৬ রান করে ফিরেন। একপ্রান্ত আগলে ইরফান ৭৭ বলে ৭৫ রান (৮ চার, ২ ছয়) করেন। শান্ত ৩২, মুশফিক ১২ রান করেন। মাহমুদউল্লাহ একাদশের পক্ষে রুবেল ২টি, এবাদত, মাহমুদউল্লাহ, মিরাজ ১টি করে উইকেট পান।
এক নজরে
n চ্যাম্পিয়ন : মাহমুদউল্লাহ একাদশ
n রানার্সআপ : নাজমুল একাদশ
n ম্যাচ সেরা : সুমন খান
n টুর্নামেন্ট সেরা : মুশফিকুর রহিম
n সেরা ব্যাটসম্যান : ইরফান শুক্কুর
n সেরা বোলার : রুবেল হোসেন
n সেরা ফিল্ডার : নুরুল হাসান সোহান
n সেরা উদীয়মান
খেলোয়াড় : রিশাদ আহমেদ
সুমন খান
ওভার ১০
রান ৩৮
উইকেট ৫
