আশুলিয়ায় জমজমাট ক্যাসিনো!

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৮

এবার রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ার কাইচাবাড়ী এলাকায় শনিবার রাতে একটি মিনি ক্যাসিনোর সন্ধান পেয়েছে র্যাব। সেখান থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ২১ জনকে। র্যাব বলছে, এই ক্যাসিনোতে প্রতি রাতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলা হতো। আর এই জুয়ার আসরে খেলত অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের অনেকেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে হারিয়েছে তাদের নিত্যদিনের আয়। জুয়ার আসর থেকে জব্দ করা হয়েছে প্লেয়িং কার্ডসহ একটি ইলেকট্রিক ক্যাসিনো বোর্ড, ১০০ ইয়াবা, ১২ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ২২টি মোবাইল ফোনসেট এবং নগদ ৩৮ হাজার টাকা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিছুর রহমানের উপস্থিতিতে এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে র্যাব-৪-এর একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. বিল্লাল, মো. জুয়েল, মইদুল ইসলাম, সবুজ মিয়া, মো. শরিফ, মো. লিটন, রবিউল মোল্লা, আবু তালেব, দিয়াজুল ইসলাম, মো. শিপন, আব্দুল আলিম, আজাদুল ইসলাম, সোহেল মোল্লা, আসাদুল ইসলাম, মো. এখলাছ, মঈন মিয়া, মাসুদ রানা, হাবিবুর রহমান, রুবেল মিয়া, ফজলে রাব্বি ও রনি ভূঁইয়া।

গতকাল রবিবার দুপুরে মিরপুরের পাইকপাড়ায় র্যাব-৪-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, এই জুয়ার আসরে খেলত অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ, যাদের অনেকেই জুয়ায় আসক্ত হয়ে হারিয়েছে তাদের নিত্যদিনের আয়। তিনি আরো জানান, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই মিনি ক্যাসিনো চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রতি রাতে ৩০০ জনের অধিক মানুষ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার জুয়া খেলত এখানে। এই ক্যাসিনোতে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলত। রাত যত গভীর হতো, ক্যাসিনো তত জমে উঠত। র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এই ক্যাসিনো ব্যবসার মালিকানায় রয়েছেন প্লাবন হোসাইন ও ওমর ফারুক নামে দুই জন। যদিও তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেফতার করতে পারলে এই মিনি ক্যাসিনো সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।

এই মিনি ক্যাসিনোর বোর্ড কীভাবে আমদানি করা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এই বোর্ড আমদানি করা হয়েছে মালয়েশিয়া থেকে। তবে দেখে মনে হচ্ছে, সম্প্রতি আমদানি করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘অনেক বড় বড় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব। সমাজের খুব বড় বড় তথাকথিত গ্যাংস্টারকে আটক করা হয়েছে। তারা কে কীভাবে এই ক্যাসিনো বোর্ড আমদানি করেছে, সেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। অবৈধভাবে যারাই এই বোর্ড আমদানি করুক না কেন, খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’