পুঠিয়ায় গুড় কারিগরদের প্রতারণা, শীতে চিনির চাহিদা বাড়ে ছয় গুণ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৫

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীতে কার্তিকের মাঝামাঝি থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস চিনি বিক্রি বৃদ্ধি পায় অন্য সময়ের চেয়ে ছয় গুণ। শীত মৌসুমে চিনির এই চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী ডিলারের পাশাপাশি এক ডজন সাব ডিলারের আবির্ভাব ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে রাজশাহী অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। কিছু অসাধু গুড় তৈরির কারিগর বেশি লাভের আশায় খেজুরের রসে চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করে তা বাজারজাত করেন। এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় থাকে।

জানা গেছে, দেশে বেসরকারি একাধিক চিনি আমদানি ও প্রস্তুতকারকদের পরিবেশক হিসেবে রাজশাহীতে রয়েছেন কয়েক ডজন ডিলার। তাদের সাবডিলার হিসেবে রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। অন্যদিকে প্রতি শীত মৌসুমের শুধু তিন মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে নতুন করে আরো অনেক চিনির ডিলার ও সাবডিলার ব্যবসা শুরু করেন। বছরের ৯ মাস জুড়ে দৈনিক চিনির যে চাহিদা থাকে, শীত মৌসুমের তিন মাসে সেই চাহিদা প্রায় ছয় গুণ বেড়ে যায়। পুঠিয়ার ডিলার কমল সরকার বলেন, এই অঞ্চলে শীত মৌসুমে চিনির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তারা তিন জন স্থায়ী ডিলার চিনি সাবডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করেন। শীত মৌসুমে কেন এত চিনির চাহিদা বাড়ে, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাব ডিলার বলেন, এখন চিনির চেয়ে খেজুরের গুড়ের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের খেজুরের গুড়ের প্রত্যেক কারিগর নিয়মিত চিনি কেনেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ গুড় তৈরির কারিগর খেজুরের রসে গড়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ কেজি চিনি ব্যবহার করেন।

পুঠিয়ার ঝলমলিয়া বাজারে খেজুরের গুড় বিক্রি করতে আসা আলী হোসেন বলেন, এবার শীত শুরুর আগেই বেশি লাভের আশায় অনেক গাছি খেজুরগাছের রস আহরণের পুরো প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছেন। তবে মেঘলা আকাশের কারণে শীত না পড়ায় এখনো তেমন রস আসছে না। তাই গাছিরা এই সামান্য রসের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি মিশিয়ে খেজুরের গুড় তৈরি শুরু করেছেন। আবার অনেকেই গত বছরের পুরোনো ‘র’ বা লালি, রং আর চিনির মিশ্রণে পাটালি গুড় তৈরি করছেন। তিনি আরো বলেন, গুড়ের রং ভালো হলে বাইরে থেকে আসা পাইকারেরা বেশি দামে কিনতে আগ্রহী হন। তাই গুড়ের রং তৈরি করতে একটুি বেশি পরিমাণে সোডা ও হাইড্রোজ দিতে হয়। এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, খেজুরের গুড়ে চিনি মেশানোর বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজ নিয়ে জানবেন এবং অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।