২ হাজার ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও প্রযুক্তি বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শেষ হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিমানবন্দরে রূপান্তরিত হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে, বলেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার চা-বাগান, পাহাড় টিলা বেষ্টিত সবুজ সিলেটে বিমানবন্দরটি নবদিগন্তের সূচনা করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সিলেট আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ অক্টোবর সকালে ভিডিও কনফারেন্সে টার্মিনাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, সিলেটে বিমানবন্দর উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে। পার্শ্ববর্তী দেশসহ সারা পৃথিবীর সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের আওতায় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালসহ ৩৪ হাজার ৯১৯ বর্গমিটারের আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মিত হবে। এ টার্মিনালে আটটি বিমান এক সঙ্গে ওঠা-নামা করতে পারবে। এর বাইরে ৬ হাজার ৮৯২ বর্গমিটারের কার্গো ভবন, ২ হাজার ৪১৫ বর্গমিটারের ফায়ার স্টেশন, ২ হাজার ৭৭২ বর্গমিটারের কন্ট্রোল টাওয়ার, ১ হাজার ৩৯৫ বর্গমিটারের প্রশাসনিক ভবন, ৬০৬ বর্গমিটারের মেইনটেন্যান্স ভবন, ২ হাজার ৫২৪ বর্গমিটারের ইউটিলিটি ভবন এবং ৯ হাজার ২৯৯ বর্গমিটারের মধ্যে আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ওসমানী বিমানবন্দর ম্যানেজার হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় তাদের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড গড়ে তুলেছে এবং প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে।
সূত্র জানায়, ভবনের স্থাপত্য নকশা করেছে কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান। এর আগে গত বছরের মে মাসে বেবিচক সদর দপ্তর সম্মেলন কক্ষে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণকাজের চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন হয়।
