সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতনের তথ্য গোপন রাখতে কনস্টেবলদের শাসিয়েছিলেন বরখাস্তকৃত পলাতক এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া। তিনি বলেছিলেন, ‘রায়হান সম্পর্কে সত্য কথা বললে বুকে গুলি করব পিঠ দিয়ে বের হবে।’ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এমনটিই জানিয়েছেন ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল শামীম মিয়া, সাইদুর রহমান ও দেলোয়ার হোসেন।
গত ১১ অক্টোবর ঐ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান মারা গেলে পিবিআই মামলার তদন্তে নামে। পিবিআই ঘটনার সময় বন্দর ফাঁড়িতে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল দেলোয়ার, শামীম ও সাইদুরকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের ১৯ অক্টোবর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জিহাদুর রহমানের খাস কামরায় নেওয়া হলে সেখানে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন বিচারক।
সূত্র জানায়, কনস্টেবল শামীম মিয়া জবানবন্দিতে বলেন, ১০ অক্টোবর রাত ২টার দিকে বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা শেষ করে ফাঁড়ির মুন্সির কক্ষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার পর কক্ষের ভেতরেই কান্নার শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখেন, দুই হাত পেছনের দিকে হাতকড়া লাগানো রায়হান মেঝেতে বসে চিত্কার করছেন। কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস মোটা লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। একপর্যায়ে রায়হান কাত হয়ে মেঝেতে শুয়ে পড়লে কনস্টেবল টিটু তার পায়ের তলায় আঘাত করেন। তখন কনস্টেবল হারুনুর রশিদও রায়হানকে মারধর শুরু করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী ও কুতুব উদ্দিন রুমে উপস্থিত ছিলেন। আর রুমের দরজায় দাঁড়ানো ছিলেন কনস্টেবল তৌহিদ ও সজিব। কিছুক্ষণ পর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন এসে টিটুর হাতের লাঠি নিয়ে রায়হানকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। তার মারমুখী আচরণ দেখে এএসআই কুতুব আকবরকে বলেন, ‘স্যার আর মাইরেন না।’ সকাল সাড়ে ৭টায় ডিউটিতে যাওয়ার সময় দেখি রায়হানকে যেখানে মারধর করা হয় সেই স্থানটি ভেজা। সকাল ৯টায় আমরা ওসমানী মেডিক্যালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের স্টোরে গিয়ে দেখি লাশ। পাশে কনস্টেবল তৌহিদ। লাশটি দেখেই আমি চিনতে পারি।
সাইদুর আদালতকে জানান, বন্দরবাজার ফাঁড়ির মুন্সি কনস্টেবল আমিনুলের রুমে কনস্টেবল হারুন রায়হানের পা উঁচু করে ধরে রাখেন, এসআই আকবর ও কনস্টেবল টিটু তার পায়ের পাতা এবং পায়ে আঘাত করেন। এ সময় এএসআই আশেক এলাহী আকবরকে বলেন, রায়হান পুলিশের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে তার পায়ে মারেন। পায়ে মারলে সমস্যা নেই। পরে কয়েক বার রায়হানের চিত্কার শুনতে পাই। ভোর ৪টায় কনস্টেবল দেলোয়ারকে আমি ডিউটি বুঝিয়ে দিয়ে চলে যাই।
