আনন্দ পট

বাইসাইকেল

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০৫

ওবায়দুল্লাহ সায়াদ

বিনা খরচে দ্রুত পথচলা ও শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বাইসাইকেলের বিকল্প নেই। সহজ, জ্বালানিমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় বাইসাইকেল। বিশেষ করে দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতার মতো মেগা সিটিগুলোতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকার চেয়ে অল্প সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সাইকেল এখন কর্পোরেট লোকদেরও পছন্দ।

বাইসাইকেলের বাংলা অর্থ হলো দ্বিচক্রযান। ১৮৪৭ সালে প্রথম ফরাসি একটি প্রকাশনায় শব্দটি ব্যবহার হয়। দুই চাকার একটি অজ্ঞাত বাহনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য। মূলত পা দ্বারা চালিত দুই চাকার বাহনকেই বাইসাইকেল বলা হয়, যেখানে মেশিনের ব্যবহার নেই। তবে বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে মেশিনের ব্যবহার দেখা যায়। প্রথম দুই চাকার বাহন আবিষ্কার করেন জার্মানির কার্ল ভন ড্যারন নামে এক ব্যক্তি। ১৮১৭ সালে তিনি তাঁর আবিষ্কৃত বাইসাইকেল জনসম্মুখে আনেন জার্মানির শহর ম্যানহেইম-এ। তিনি এর নাম দিয়েছিলেন Laufmaschine—এটা আজকের দিনের বাইসাইকেলের মতো ছিল না। কাঠের ফ্রেমের সঙ্গে কাঠের দুটি চাকা লাগানো এক ধরনের বাহন, ছিল না কোনো প্যাডেল বা কোনো পুলার। পায়ের সাহায্যে মাটিতে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ছিল এর মূল কার্যপ্রণালী। ইংলিশরা মজা করে একে বলত ডেন্ডি হর্স। ১৮৮০ সালে সাইকেলের দুই চাকা সমান পর্যায়ে নিয়ে আসা হয় এবং চেইন ও টায়ার লাগানো হয়। ১৯০৩ সালে যুক্ত হয় গিয়ার। আর ১৯৩০ সালে স্প্রিং যুক্ত করা হলে টায়ারে হাওয়া ভরা থাকত না। মেয়েরা যাতে স্কার্ট পরে সাইকেল চালাতে পারে সেজন্য এই সময় তৈরি করা হয় ভিন্ন এক ধরনের সাইকেল। ১৮৮৮ সালে টায়ারে হাওয়া ঢোকানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ফ্রান্সের পিয়ের মিশো এবং যুক্তরাষ্ট্রের পিয়ের লালেমেন্ট—এই দুজন প্রথম প্যাডেলচালিত সাইকেল আবিষ্কার করেন। তবে এই দুজনের কে আসল উদ্ভাবক তা কিন্তু আজো সঠিকভাবে জানা যায়নি। যদিও ১৮৬৬ সালের ২০ নভেম্বর পিয়ের লালেমেন্ট সাইকেল উদ্ভাবনের জন্য তাঁর দেশে স্বীকৃতি পান। সেই হিসেবেই বাইসাইকেলের আবিষ্কারের সময় ধরা হয়। ১৮৭০ সালের পরে ব্রিটেনে আরো দ্রুত, সুন্দর এবং উঁচু সাইকেল তৈরি করেন জেমনস স্টার্লি ও উইলিয়াম হিলম্যান। তবে সেগুলোর মান তেমন উন্নত না হওয়ায়, সে সময় কিছু গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটে। যে কারণে পরে আর এগুলোকে রাস্তায় চলতে দেখা হয়নি। তবে ১৮৮৮ সালে সাইকেলে নিডাররাড ও ডানলপ কোম্পানির চাকা লাগানোর ফলে দুই চাকার বাহনের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে সাইকেল অলিম্পিক প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন মোট ৮৮ জন প্রতিযোগী। সাইকেল অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাটলান্টার কাছে, জর্জিয়া আন্তর্জাতিক হর্স পার্কে।

বাইসাইকেলের ধরন মোটামুটি সাত ধরনের হতে পারে—ট্যুরিং, মাউন্টেইন, হাইব্রিড বা ক্রস, ইউটিলিটি, রেসিং বা স্পেশিয়ালিটি। সরল বাঁধানো রাস্তায় চলার জন্য ব্যবহার করা হয় ট্যুরিং বাইসাইকেল। পাহাড়ি ঢালু এবং এবড়োখেবড়ো পথে চলতে ব্যবহূত হয় মাউন্টেইন বাইক। আর এই দুই ধরনের অর্থাত্ ট্যুরিং ও মাউন্টেইন সাইকেলের সম্মিলিত প্রযুক্তি ও সুবিধা নিয়ে যে সব সাইকেল পাওয়া যায় সেগুলো হাইব্রিড বা ক্রস বাইসাইকেল। চৌদ্দ কেজির বেশি ওজন আর দামে সস্তা ইউটিলিটি বাইসাইকেল ব্যবহূত হয় মূলত মালামাল পরিবহনের জন্য, ছোটরাও এগুলো চালায়। সবচেয়ে হালকা সাইকেল হিসেবে সুনাম আছে রেসিং বাইসাইকেলের। বাতাস কেটে দ্রুতগতিতে চালানোর জন্য এগুলোকে হালকা করে তৈরি করা হয়। বিশেষ প্রয়োজন মেটানোর জন্য অন্য যে কোনো ডিজাইনের সাইকেলকেই স্পেশালিটি সাইকেল বলে। এর একটি উদাহরণ হতে পারে ইলেকট্রিক সাইকেল।

বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশক নাগাদ বিশ্বজুড়ে বাইসাইকেল বেশ জনপ্রিয়তা পায়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সাড়ে সাত কোটি বাইসাইকেলচালক ছিলেন ১৯৭০ সালের হিসাবে।