দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৪

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতি কতটা এগোচ্ছে তা বোঝা যায় ঐ দেশের মানুষ কতটা বাজারমুখী।’ আমাদের দেশে হাট-বাজার জমজমাট। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য সীমিত আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণ মূলত তিনটি। প্রথমত, পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়া। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈরী আবহাওয়ার জন্য ফসলের উত্পাদন কমে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সিন্ডিকেটচক্রের কারসাজি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং অধিক মুনাফার লোভে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে দেয়। তৃতীয়ত, বাজার মনিটরিংব্যবস্থার দুর্বলতা। সরকারের পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের তদারকি জোরদার করার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এখনো পণ্যের দাম কমেছে তা বলা যাবে না। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার সুযোগ থাকলেও সেটা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেনি। টিসিবির পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে টিসিবি ডিলারশিপ নিয়োগ ও বাতিলে কঠোর হয়েছে। কিছুদিন আগে প্রায় ১০০ ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, কারচুপি ও কালোবাজারে বিক্রির দায়ে। এই করপোরেশনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। টিসিবির মাধ্যমে ৪৯২টি উপজেলায় একটি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থায়ী দোকান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। সংস্থাটি দোকানগুলো কঠোরভাবে মনিটরিং করবে এবং এখান থেকে সবসময় ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। এ ধরনের উদ্যাগ নিলে সিন্ডিকেটচক্র ভেঙে যাবে এবং খেটেখাওয়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যসামগ্রীর দাম থাকবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে স্থায়ী সমাধানের একটি পথ খুজে বের করার জন্য অনুরোধ করছি।

মো. তামিম হাসান, সিংড়া, নাটোর