ফুলবাড়িয়ায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩১

আবুল কালাম, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ফুলবাড়িয়ায় গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে গোখাদ্যের দাম চড়া। এতে বিপাকে পড়েছেন গবাদি পশু পালনকারীরা। উপায় না পেয়ে তারা বিকল্প খাদ্য হিসেবে গবাদি পশুকে স্পিনিং মিলের তুলা (ডাস্ট) খাওয়াচ্ছেন। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ গবাদি পশুকে স্পিনিং মিলের তুলা খাওয়ানোর বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, তুলা প্রাণীদেহের জন্য ক্ষতিকর।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কান্দানিয়া বাজারে প্রতি কেজি তুলা আট টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি খড় বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। গরুর খামারি ও প্রান্তিক চাষিরা এক মণ, দুই মণ করে তুলা কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। দোকানি হাফিজুল জানান, এক থেকে দেড় মাস ধরে খড়ের দাম লাফিয়ে পাঁচ গুণ হয়েছে। বর্তমানে এক মণ খড় বিকি হচ্ছে ১ হাজার টাকা দরে। করোনাকালীন গ্রামের মানুষ এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার ওপর অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা এখন নিজের পরিবারের খাবারই সংগ্রহ করতে পারছেন না। চড়া দাম দিয়ে গোখাদ্যের জন্য খড় কিনবে কীভাবে। তুলা কিনতে আসা সুমন জানান, গরুকে স্পিনিং মিলে তুলা (ডাস্ট) খাওয়ালে কোনো ক্ষতি হবে কিনা বিষয়টি তার জানা নেই। চড়াদামে খড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় তিনি গরুকে তুলা খাওয়াচ্ছেন। আরেক প্রান্তিক চাষি হাসিম জানান, আমার দুটি গাভিকে কুড়া, ফিডের খাবার ও গমের ভূষির সঙ্গে তুলা মিশিয়ে এক মাস ধরে খাওয়াচ্ছি। এখনো কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।  ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনিছুর রহমান বলেন, স্পিনিং মিলে তুলা (ডাস্ট) কখনো গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হতে পারে না। গবাদি পশু ক্ষুধার কারণে তুলা খেলেও এক সময় তা গরুর শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি গবাদি পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।