সৈয়দপুরে নেই নির্ধারিত কোচস্ট্যান্ড
মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
সৈয়দপুরে দিবা ও রাত্রীকালীন কোচের নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বর্তমানে শহরের পাইলট স্কুল, দিনাজপুর রোডের সিঙ্গার শো-রুম, আইয়ুব পেট্রোল পাম্প, খালেক পাম্পের সামনে, স্টেডিয়ামসংলগ্ন রাস্তার পাশে বিভিন্ন পয়েন্টে দূরপাল্লার কোচ থেকে যাত্রী ওঠানামা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে শহরের ভেতরে শহিদ ডা. জিকরুল হক রোডে ছিল পরিবহনগুলোর নিজস্ব বাস কাউন্টার। সে সব কাউন্টার থেকেই যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে যাওয়া-আসা করত। কিন্তু ২০১০ সালের ২৯ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু এবং এক জন রিকশাচালক মারা যাওয়াসহ বেশ কয়েক জন আহত হয়। এরপর স্থানীয় লোকজন শহরের বাইরে নির্ধারিত স্থানে দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন করেন। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কোচগুলোর প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। পরে শহরের পশ্চিমে কুন্দলে স্টেডিয়ামসংলগ্ন রাস্তার পাশে দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঐ স্থান নির্ধারণ নিয়ে পরে দ্বিমত দেখা দেয়। উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আয়শা খাতুন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। বাবা নেই, মা অসুস্থ। তাই নিয়মিত আমাকে ঢাকা-সৈয়দপুর যাতায়াত করতে হয়। বাঙালিপুর ইউনিয়নের আরিফুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ড কিংবা যাত্রী ছাউনি না থাকায় অনেক সময় বৃষ্টির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকি।’ নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল বলেন, ‘আমি পৌর মেয়র থাকাবস্থায় কুন্দলে কোচস্ট্যান্ড করে দিয়েছিলাম এবং সেখানে নিরাপত্তা প্রহরীও নিয়োগ দিয়েছিলাম। কিন্তু একটি পক্ষ ঐ স্থান নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে। এরপর আমি বর্তমান পৌর পরিষদকে বহুবার স্ট্যান্ড করার কথা বলেছি। নীলফামারী জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন সানু বলনে, বর্তমানে আন্তঃ জেলা বাস টার্মিনালসংলগ্ন রাস্তার পাশেই দূরপাল্লার কোচগুলোর যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে সন্ধ্যার পর যানজট সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেন, একটি নির্ধারিত স্থানে কোচস্ট্যান্ড গড়ে তোলার জন্য বহুবার মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র অধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, শহরের অধিকাংশ ভূ-সম্পত্তি রেলওয়ের। আমরা কোচস্ট্যান্ড করার জন্য নির্ধারিত একটি জায়গা খোঁজার চেষ্টা করছি। বর্তমানে শহিদ ডা. জিকরুল হক রোডের আগের জায়গাতেই কোচযাত্রী ওঠানামা করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে।
