পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের সীমা বাড়ছে

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৯

ইত্তেফাক রিপোর্ট

২০১৫ সালে নতুন পে-স্কেল প্রদানের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা হালনাগাদ হয়নি। তাই এবার পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করে এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর মহাপরিচালক সভায় জানান, ২০০৪ সালে পেনশনার সঞ্চয়পত্র চালু হওয়ার সময় ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমা ছিল ২০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এ সীমা বাড়ানো হয়। তিনি সভাকে আরো অবহিত করেন, ২০০৯ সালে পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিধিমালা সংশোধন করে পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সভায় আরো আলোচনা হয়, ২০১৫ সালে নতুন পে-স্কেল প্রদানের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা হালনাগাদ হয়নি। তাই এক্ষেত্রে এক জন সরকারি কর্মচারীর আনুতোষিক ও ভবিষ্যত্ তহবিল হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়।

কিন্তু এ বিষয়ে সভায় সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এক্ষেত্রে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি পাবে এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। তবে পূর্বের এবং ২০১৫ সালের বেতন পর্যালোচনা করে সামগ্রিক বাস্তবতার নিরিখে পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এসব আলোচনার পর সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, আগের এবং ২০১৫ সালের বেতন স্কেল পর্যালোচনা করে পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিধিমালা সংশোধনের জন্য প্রস্তাব সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে পাঠাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রটি শুধু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরেদের জন্য। দেশে যত সঞ্চয়পত্র চালু আছে, তার মধ্যে এর গ্রাহকদেরই সবচেয়ে বেশি মুনাফা বা সুদ দেয় সরকার। মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কোনো উেস কর নেবে না সরকার। তবে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের মুনাফায় উেস কর ১০ শতাংশ।