সিংগাইরে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন এসআই!

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯

কলেজছাত্রকে মারধর করায় এএসআই অবরুদ্ধ

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিংগাইর থানার এসআই ফারুক হোসেন ঘুষ হিসেবে নেওয়া টাকা গতকাল সোমবার ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী। অন্যদিকে একই দিনে এক কলেজছাত্রকে মারধর করার অভিযোগে এএসআই আবু সুফিয়ানকে অবরুদ্ধ করে রাখে গ্রামবাসী।

উপজেলার উত্তর পারিল গ্রামের মামলার বাদী আবুল হোসেন বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১৮ অক্টোবর তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ও শ্লীলতাহানি ঘটিয়ে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি আওলাদ হোসেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তার স্ত্রী মমতাজ বেগম এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন। পরদিন এ ব্যাপারে মামলা করতে গেলে থানার এসআই ফারুক মামলা নিতে টাকা দাবি করলে তিনি তা দেন। কিন্তু এসআই ফারুক আসামিদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে মামলা না নিয়ে আমাকে মীমাংসা করতে বলেন। বাধ্য হয়ে গত রবিবার থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামানের কাছে নালিশ করলে তিনি এসআই ফারুককে গালমন্দ করে তাকে বাদ দিয়ে ঐ রাতেই মামলাটি রেকর্ড করার দায়িত্ব দেন আরেক এসআই মাহফুজকে।’ তবে আবুল হোসেনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন এসআই ফারুক।

 কলেজছাত্রকে মারধর করায় এএসআই অবরুদ্ধ

এদিকে নীরব হোসেন (১৮) নামে বায়রা কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গলা চেপে মারধর করার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা একটি দোকানঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে থানার এএসআই আবু সুফিয়ানকে।  গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বায়রা বাজারের পশুর হাটে এমন ঘটনা ঘটে।

নীরব ও  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি মোটরসাইকেলে করে এখানে এলে ঐ এএসআই তাকে আটক করেন মোটরসাইকেল চলার আওয়াজ বেশি হওয়ার কারণে। এ সময় তিনি তার ভুল স্বীকার করেন। এর পরও এএসআই মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে গেলে তিনি বলেন, হয় চাবি দেন, না হয় মামলা দেন। এতে দারোগা ক্ষিপ্ত হয়ে তার গলা টিপে ধরে মারতে থাকেন। উত্তেজিত জনতা এগিয়ে এলে দারোগা একটি হার্ডওয়্যার দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরিতোষ নামে আরেক এএসআই আধা ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করেন।

সত্যতা স্বীকার করে এএসআই পরিতোষ বলেন, ‘সুফিয়ান ছেলে ভালো। আমরা একসঙ্গে আগেও চাকরি করেছি। কিন্তু আজকে কেন যে ও এ কাজটি করল! তবে ছেলেটিকে আগেও নিষেধ করা হয়েছে, এর পরও সে উচ্চশব্দে মোটরসাইকেল চালায়। তবে আমি না গেলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো। ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’