লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নানা সমস্যা, দুর্ভোগে রোগীরা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৭

মো. আবদুল মালেক, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

শূন্য পদ, হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ, নিম্নমানের খাবার, অবকাঠামোর অভাব, ডাক্তার-নার্সদের অবহেলা, ওষুধ না পাওয়াসহ নানামুখী সমস্যায় নুয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। সদর হাসপাতালে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা রোগীদের প্রচণ্ড ভিড় জমে ডাক্তারদের চেম্বারে। ফলে ডাক্তারের সাক্ষাতের জন্য রোগীদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, যে কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা গরিব ও অসহায় রোগীদের অনেকে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে ডাক্তারের সাক্ষাত্ না করেই চলে যেতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে সামর্থ্য না থাকায় তাদের অনেকের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিত্সাসেবা নেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিনিয়ত চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার অসহায় মানুষ।

নেই জেলা সদর হাসপাতালে করোনাকালীন জরুরি চিকিত্সাব্যবস্থা আইসিইউ। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরীর কোনো পদ না থাকার কারণে সদর হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সদর হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, ইসিজি, নেবুলাইজার মেশিন চালু থাকলেও রেডিওলোজিস্ট না থাকায় পুলিশ কেইসগুলোতে এক্স-রে করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া সনোলজিস্টের কোনো পদ না থাকায় আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যার ফলে জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা গর্ভকালীন মায়েদের মাতৃত্বসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সদর হাসপাতালের নোংরা পরিবেশ, রোগীদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধ না দেওয়াসহ ডাক্তার ও নার্সদের অবহেলের অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া সদর হাসপাতালে দালালদের উত্পাতের কারণে অসহায় রোগী ও রোগীর আত্মীয়স্বজনকে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের চোখের সামনে দালালেরা তাদের অপকর্ম চালালেও দেখেও না দেখার ভান করছেন তারা। হাসপাতালের আশপাশের ফার্মেসিগুলোতে দিনের বেলায় রোগীদের কাছ থেকে ওষুধের দামে চুরি করা হলেও রাতের বেলায় তা ডাকাতিতে পরিণত হয়। রাত বাড়লেই ৩০ টাকা দামের একটা সেডিল ইনজেকশনে ৩০০ টাকা আদায় করা হয়।

এদিকে সদর হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আবার এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সঙ্গে সখ্য রয়েছে হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের। এ কারণে তাদের সম্মতিতে দালালেরা হাসপাতালে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একটা রোগী সদর হাসপাতালের গেটে প্রবেশ করলেই দালালেরা পিছু নেয় তার। কর্তব্যরত চিকিত্সকদের চেম্বারের সামনেই দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানির শিকার হচ্ছে রোগীরা। রোগীদের হাত থেকে প্রেসক্রিপশন ছিনিয়ে নেওয়াসহ তাদের পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোসহ হয়রানির শিকার হচ্ছে রোগীরা।

এছাড়া সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল প্রতিনিধিদের অত্যাচার তো রয়েছেই। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ডাক্তারের চেম্বারে রোগী ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ না করার নিয়ম থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তারা ডাক্তারের চেম্বারের ভেতরে ও বাইরে ভিড় জমান। এতে করে রোগীদের সেবা নিতে বেগ পোহাতে হয়।  জেলার স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র সদর হাসপাতাল। এই জেলার অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র। প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে কিংবা জেলার বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিত্সাসেবা নেওয়া এদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। প্রায় প্রতিদিনই এই হাসপাতালে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। হাসপাতালটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও এতে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী সব সময় ভর্তি থাকে এবং আউটডোরে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার রোগীকে প্রতিদিনই চিকিত্সাসেবার জন্য ভিড় জমাতে দেখা যায়।

শূন্য পদে লোক নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গাফ্ফার বলেন, জনবল সংকটের সমস্যা সমাধানের জন্য একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খাবার পরিবেশন ও ওষুধ না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ আছে। ৮০ শতাংশ ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়। বাকি ২০ শতাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। হাসপাতালে শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকে। তাই এদের বেড ও খাবার ঠিকমতো দেওয়া সম্ভব হয় না।