গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে দল বেঁধে মাছ শিকার ‘বৈদ’

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৭

গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে বিল ও জলাশয়গুলোতে পানি কমতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে দল বেঁধে মাছ শিকার ‘বৈদ’। চলতি বছর বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বিল ও জলাশয়গুলো অনেক দিন যাবত্ই পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে ছিল। এ কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী আর আনন্দময় ‘বৈদ’ নামের দলবদ্ধ মাছ শিকার অনেক দিন পর গাইবান্ধায় দেখা যাচ্ছে।

গতকাল সোমবার এমন দৃশ্য দেখা যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার কূপতলা ইউনিয়নের নলিগলির বিলে। সেখানে দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকার করছিল লোকজন। মাছ ধরতে পলো, হ্যাংগার জাল, পলো জাল, হ্যাগা, মুঠ জাল, কোঁচা, ক্যাটা, তৌরা জাল, ঝাঁকি জাল ইত্যাদির ব্যবহার হচ্ছে। সাধারণত বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে কার্তিক মাসের প্রথম থেকে শুরু করে মাঘ মাস পর্যন্ত যখন বড় বড় বিল, খাল, জলাশয় ও ছোট ছোট নদীতে পানি কম থাকে, তখনই এই দলবদ্ধভাবে মত্স্য শিকার ‘বৈদ’-এর প্রকৃত মৌসুম।

মাছ শিকার করতে আসা একই উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের তালুক মন্দুয়ার গ্রামের আব্দুল লতিফ (৫৫) জানান, প্রাচীনকাল থেকেই এ অঞ্চলে ‘বৈদ’ প্রথা চলে আসছে। জেলার সাতটি উপজেলাতেই রয়েছে পৃথক পৃথক শৌখিন মাছ শিকারির দল, অর্থাত্ ‘বৈদ দল’। বৈদ দলের আলোচনার ভিত্তিতে মাছ শিকারের নির্দিষ্ট জলাশয়, তারিখ, সময়, যাত্রার স্থান নির্ধারণ করে গ্রামের হাটবাজারে ঢোল বাজিয়ে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। এই বৈদের দলের একজন দলনেতা থাকেন, যার কাছে থাকে মহিষের শিং দিয়ে তৈরি বড় একটি বাঁশি, যাকে বলা হয় বৈদের শিঙা, যা দিয়ে বিউগলের মতো উচ্চ স্বরে শব্দ বের হয়। অনেক দূর থেকে তা শোনা যায়। নির্ধারিত স্থানে যথাসময়ে (মাছ শিকারের দিন) শিঙায় ফুত্কার দেওয়া হয় বারবার। আর শিঙার আহ্বানে নিজ নিজ পছন্দমতো মাছ ধরার নানা সরঞ্জাম নিয়ে সমবেত হতে থাকে মাছ শিকারিরা।

কূপতলা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আজিজল মিয়া (৫০) জানান, পূর্বনির্ধারিত বিল বা জলাশয়ে দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকার চলে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। যে কেউ এতে শামিল হতে পারে। সে কারণে একটি বৈদের দল যখন কোনো বিল বা নদীতে একযোগে সারিবদ্ধভাবে মাছ শিকারে নামে, তখন মাছ শিকারির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০ থেকে ১ হাজার বা তারও বেশি।

 আরেক মাছ শিকারি একই ইউনিয়নের পাঁচজুম্মা গ্রামের আইজল ইসলাম বলেন, এতে অনেকে মাছ পায় আবার অনেকে একটি মাছও পায় না। কিন্তু তাতে বৈদ শিকারিদের কোনো দুঃখ নেই। কেননা, এখানে দলবদ্ধভাবে মাছ ধরতে যাওয়ার আনন্দটাই মুখ্য, মাছপ্রাপ্তি মূল বিষয় নয়।