চলনবিলে চলছে অতিথি পাখি শিকার!

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৭

গোলাম মোস্তফা, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

আসছে শীত। সেই সঙ্গে বৃহত্তর চলনবিল এলাকায় বেড়েছে অতিথি পাখির আনাগোনা। মূলত অপেক্ষাকৃত শীত থেকে বাঁচতেই নানা প্রজাতির পাখি আশ্রয় নেয় চলনবিলে। কিন্তু কতিপয় মানুষ অর্থের লোভে নির্মমভাবে শিকার করছে পাখিগুলো। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠ, নদী, পুকুর, খাল, ডোবানালায় দলবেঁধে উড়ে বেড়াচ্ছে সাদা বক, ধূসর বক, গো বক, ছোট পানকৌড়ি, বড় পানকৌড়ি, কাদাখোঁচা, মাছরাঙ্গা, সারস, বালিহাঁস শামুকখোল, নীলশির, লালশির, বড় সরালী ও ছোট সরালী। এসব পাখি বিশেষ কায়দায় তৈরি ফাঁদ, জাল, বিষটোপ ও বড়শি দিয়ে দিন-রাত নির্বিচারে শিকার করছে পাখি শিকারিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন পাখি শিকারি জানায়, বিস্তীর্ণ মাঠে সারি সারি ফাঁদ পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি শিকার করছেন তারা। অনেকে রাতের অন্ধকারে কাদাখোঁচা, রাতচোরা, বালিহাঁসসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি শিকার করছেন। তারা আরো জানায়, পাখির গোশতের বেশ চাহিদা রয়েছে। বেশির ভাগ পাখি গ্রামএলাকা ও রাস্তার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মর্জিনা ইসলাম জানান, শীতের শুরুতে চলনবিল থেকে পানি নেমে যাওয়ার সময় জলাশয়গুলোতে পুঁটি, খলসে, দারকিনাসহ প্রচুর পরিমাণে ছোট ছোট মাছ ও কীটপতঙ্গ পাওয়া যায়। মূলত খাওয়ার লোভ ও অপেক্ষাকৃত শীত থেকে বাঁচতেই বিভিন্ন স্থানের নানা প্রজাতির পাখি আশ্রয় নেয় চলনবিলে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি শিকার বন্ধ করা অতীব জরুরি। উপজেলা বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কামরুজ্জামান বলেন, রাতে ও ভোরবেলায় পাখি শিকার করা হচ্ছে। লোকবলের অভাবে তেমন কিছু করার থাকে না। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম বলেন, দিন বা রাত যখনই হোক পাখি শিকারি ধরা পড়লে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।