নাটোর চিনিকল জোন
নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে চিনিকলের আওতাভুক্ত এলাকায় অবৈধ পাওয়ার ক্রাশারে হচ্ছে আখ মাড়াইয়ের কাজ। চিনিকলে মাড়াই মৌসুম শুরু হতে এখনো দেড় মাস বাকি। অথচ চিনিকলের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় সরকারিভাবে নিষিদ্ধঘোষিত পাওয়ার ক্রাশারের মাধ্যেমে চিনিকলের উত্পাদিত ভালো আখ ক্রয় করে বাণিজ্যিকভাবে গুড় উত্পাদন করা হচ্ছে। জানা গেছে, বর্তমানে নাটোর চিনিকল এলাকায় প্রায় ২ শতাধিক পাওয়ার ক্রাশারে গুড় উত্পাদন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নাটোর বাসুদেবপুর, বাগাতিপাড়া ও ঝলমলিয়া সাবজোন এলাকায় বেশি পাওয়ার ক্রাশারে গুড় উত্পাদন চলছে। উত্পাদিত এসব গুড় শহরের চকবৈদ্যনাথ ও নলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুড় মোকাম থেকে ট্রাকে নাটোর থেকে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। নাটোর চিনিকল সূত্রে জানা যায়, আগামী ২০ নভেম্বর চিনিকলের ২০২০-২০২১ মৌসুম আখ মাড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। ১ লাখ ৩২ হাজার টন আখ মাড়াই করে ৯.৫০০ টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নাটোর বাসুদেবপুর সাবজোনের রামশা কাজীপুর ধনকুড়া গ্রামের আখচাষি তাহের সানোয়ার হোসেন জানান, গত মাড়াই মৌসুমে নাটোর চিনিকলে আখ বিক্রি করে এখনো টাকা পাননি। আবার এবার আখের টাকা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান। হাতে টাকা নেই তাই বাধ্য হয়েই ক্রাশারে আখ বিক্রি করছি। বিপ্রবেলঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দিন জানান, গত মৌসুমের আখের টাকা এখনো পাওয়া যায়নি। আখ বিক্রি করে চাষিরা জীবিকা চালান। তাই আখচাষিরা বাধ্য হয়ে ক্রাশারে গুড় তৈরি করছেন। অন্যদিকে গুড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় আখ বিক্রি করছেন। আমি চিনিকলের চাকরি থেকে দুই বছর আগে অবসরে গেলেও আজও পাওনা টাকা পাইনি। নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. রুস্তম আলী জানান, অবৈধ পাওয়ার ক্রাশার কাজে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। তবে যেভাবে পাওয়ার ক্রাশারে আখ মাড়াই চলছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত। আখচাষিদের ঋণ ও সার, কীটনাশক, উপকরণ বাবদ বিপুল পরিমাণ ঋণ বিনিয়োগ আদায় করা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
