কেরানীগঞ্জে ‘জিপি’ নামে চাঁদার খড় ্গ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৮

সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন আদায় ৮০ হাজার টাকা

এইচ এম আমীন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বন্দডাকপাড়া এলাকায় সিএনজি ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে অভিনব কায়দায় চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। তাদের এ কৌশলের নাম ‘জমা পরিশোধ’ যার সাংকেতিক নাম ‘জিপি’। জানা গেছে, চক্রের হোতা স্থানীয় বাসিন্দা এবং থানা ছাত্র লীগের সাবেক নেতা রাজিব হোসেন। স্ট্যান্ডে পার্ক করা গাড়িতে তার সহযোগীরা এক ধরনের স্টিকার লাগিয়ে প্রতি সিএনজি অটোরিকশা থেকে ভর্তি ফি বাবদ এককালীন ৫ হাজার টাকা ও রোজ ৭০ টাকা এবং প্রতি ট্রাক থেকে ভর্তি ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা ও দৈনিক ২২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে থাকে। সে হিসাবে প্রতিদিন তারা এ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা আদায় করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা।

 সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকচালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চালকদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করা হলেও কেউ প্রতিকারে এগিয়ে আসেনি। কোনো চালক চাহিদামতো চাঁদা না দিলে তাদের মারধরসহ গাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। গাড়ি থামতে দেওয়া হয় না স্ট্যান্ডে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৫ সালে এদের মধ্যে মিলন নামে এক চাঁদাবাজ ছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক। মাত্র পাঁচ বছরে ঐ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তুলে মিলন বন্দডাকপাড়া, চড়াইল খেলার মাঠ ও চর কুতুব এলাকায় চারটি বাড়ির মালিক হয়েছেন।

জানা যায়, প্রতিদিন বন্দডাকপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে খোলামুড়া, আটি বাজার, কোনাখোলা, রামেরকান্দা, রোহিতপুর ও নবাবগঞ্জ রুটে অন্তত ৫০০ সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। জিআই প্লেনসিট ব্যবসায়ী মার্কেট থেকে মালামাল নিয়ে কেরানীগঞ্জ ও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে আনুমানিক ২০০ ট্রাক। প্রতি ট্রিপে সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকচালকদের গুনতে হয় নির্ধারিত চাঁদা।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, করোনাকালীন গত জুলাই মাসে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঐ স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজ ফরিদকে আটক করে দুটি চাঁদা মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠালে মিলনসহ বাকি চাঁদাবাজরা গাঢাকা দেয়। তবে দুই মাস পর ফরিদ জামিনে ছাড়া পেয়েছে। তিনি বলেন, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলা বন্ধ রয়েছে। জামিনে এসে আবারও ফরিদ ও মিলন গং চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে রাজিব হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আগে চাঁদা তোলা হলেও গত জুলাই থেকে তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কেউ চাঁদা তুললে তার সঙ্গে তিনি জড়িত নন। একই সঙ্গে তিনি এও দাবি করেন যে, অতীতেও তিনি চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

এ ব্যাপারে জিঞ্জিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকু হোসেন সাকু বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে তার একার পক্ষে চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব নয়। কদমতলী ট্রাফিক বক্সে দায়িত্ব পালনরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন পুলিশ সদস্য স্বীকার করেন, সিএনজি ও ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে বর্তমানে চাঁদার নাম পরিবর্তন করে ‘জিপি’ তোলা হচ্ছে এটা অনেকেরই জানা। ভুক্তভোগী সিএনজি ও ট্রাকচালকরা এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।