মার্কিন স্যাটেলাইটের তথ্য পাবে ভারত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৫

যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মার্কিন স্যাটেলাইটের তথ্য ভারতকে দেওয়া হবে। আর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়াদিল্লির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে ওয়াশিংটন। গতকাল ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে এই অঙ্গীকার করেন। বৈঠকে চীনের আগ্রাসন নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। খবর ওয়ান ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার

পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষরিত

বেসিক এক্সচেঞ্জ কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্টসহ পাঁচটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। এর ফলে লাদাখ এবং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের গতিবিধিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে দুই দেশ একটা সমঝোতায় এসেছে। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা থেকে এমকিউ-৯ বি ড্রোন পাবে। ফলে লাদাখে চীনের ওপর আরো কড়া নজরদারি চালাতে পারবে ভারত। এই ড্রোন দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে হানা দিতেও সক্ষম হবে ভারত। এছাড়া আফগানিস্তানে তালেবান শান্তি চুক্তি নিয়েও কথা হয় গতকালের বৈঠকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারত মহাসাগরে একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। গতকাল অন্যান্য চুক্তির মধ্যে রয়েছে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়াসম্পর্কিত একটি এমওইউ, পরমাণু সহযোগিতা                 এবং ব্যবস্থাপনার বিস্তার, ডাক সেবার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, আয়ুর্বেদ এবং ক্যানসার নিরাময় এবং অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সহযোগিতার চুক্তি।

দিল্লি-ওয়াশিংটনের তৃতীয়

‘টু প্লাস টু’ বৈঠক

২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের পর থেকে প্রতি বছর দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে এ আলোচনা হয়ে আসছে। সেই ধারা বজায় রেখেই গতকাল বৈঠকে বসে দুই দেশ। এটি এ পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে যোগ দিতে সোমবারই দিল্লিতে আসেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ভারতের পক্ষে এই বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

ভারত মহাসাগরে চীনা

আগ্রাসন নিয়ে আলোচনা

পশ্চিম ভারত মহাসাগরে চীনের আগ্রাসন নিয়ে আমেরিকার জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে ভারত, বাংলাদেশ, জাপান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য বন্ধ হতে বসেছে। ফলে চীনকে ঠেকাতে ভারতের সাহায্যের জন্য বৈঠকে আলোচনা হয়। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিলে কোয়াড জোটকে আরো পোক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়াদিল্লির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত করতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলেও উল্লেখ করেন পম্পেও। জয়শংকর-রাজনাথের পাশাপাশি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পম্পেও। সূত্রের খবর, প্রায় ৪০ মিনিটের ঐ বৈঠকেও মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পূর্ব লাদাখে চীনের আগ্রাসন।