গোপাল ভাঁড়ের কাছে প্রায়ই এক গুলবাজ এসে গুলগপ্পো ছাড়ত। একদিন এসে বলল, জান গোপাল আমার মামাবাড়িতে না ইয়া বড় এক লোহার কড়াই ছিল—তা বলতে গেলে একটি পুকুর, পুকুরই বা বলছি কেন, আকারে একটা দিঘির মতোই হবে। মামারা কড়াইটা রাখত মাঠের মধ্যে। বর্ষাকালে সেই কড়াইতে এত বৃষ্টির জল জমত যে কী বলব, গাঁয়ের লোকজন সেই কড়াইতে সাঁতার কাটত, গোসল করত।
গোপাল এই গল্প শুনে বলল, জানেন আমার বড় মামা একবার বর্শা দিয়ে এত বড় একটা রুইমাছ ধরেছিলেন যে রুইমাছটার মাথাই হবে প্রায় পঞ্চাশ হাত আর পুরো মাছটা যে কত বড় তা মাপার মতো ধৈর্য কেউ দেখায়নি। আহ কী চমত্কার স্বাদ সেই রুইমাছ ভাজার, এখনো জিভে লেগে আছে।
গোপালের কথা শুনে গুলবাজ বিস্ময় প্রকাশ করে, অত বড় রুইমাছ ভাজতে কত বড় কড়াই লাগে তা জানা আছে তোমার?
গোপালের সোজাসাপটা জবাব—আপনার মামাবাড়ির সেই কড়াই সেবার আমার মামারা আনিয়ে নিয়েছিলেন যে!
