রেজাউল হক কৌশিক
প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছিল। ফলে অর্থনীতিতে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল। করোনাকালে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। তবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য। অন্যদিকে করোনার সময়ে আমদানি কম হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে। চলতি অর্থ বছরের (২০২০-২১) প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি ৪৭ শতাংশ কমে এসেছে। অপরদিকে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের ঘাটতিও কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় কমেছে। কারণ, হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, করোনার কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য প্রায় বন্ধ ছিল। ফলে বিলাসী ও প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যই তেমন আমদানি হয়নি। আবার অভ্যন্তরীণ বাজারে বিনিয়োগের চাহিদা ছিল না বললেই চলে। এতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও কমেছে। এর সঙ্গে অর্থবছরের প্রথম থেকেই রপ্তানি বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করোনার শুরুতে যেভাবে রপ্তানি কমতে শুরু করেছিল তাতে সবাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে, বাণিজ্য ঘাটতি আরো বাড়বে। তবে তেমনটা হয়নি। অন্যদিকে এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণও আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩৮৪ কোটি ডলার। অর্থাত্ এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৮০ কোটি ডলার কমেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ হলো ১৫ হাজার ৩০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আমদানিতে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে এক হাজার ১৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের আমদানি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। আলোচ্য তিন মাসে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে দুই দশমিক ৯৭ শতাংশ। এ সময়ে ৯৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৮২ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।
এদিকে আলোচ্য সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বেড়েছে। রপ্তানি বাড়ায় এবং আমদানিজনিত চাপ কম থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে গেছে। সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। লেনদেন ভারসাম্যের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চলতি হিসেবে উদৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৫৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অন্যদিকে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতিও কমেছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এ খাতের ঘাটতি ছিল ৮৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি বছরে তা কমে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫৪ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাংলাদেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ হিসেবে তিন মাসে এফডিআই কমেছে ২৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
