কারাগারে বন্দিদের নাশতায় রুটি-গুড় বরাদ্দ সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। এ নিয়ে কারাবন্দিদের ক্ষোভের অন্ত ছিল না। সে যুগের অবসান হয়েছে, বন্দিদেরকে সপ্তাহের সাত দিন তিন ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে রুটির সঙ্গে হালুয়া-সবজি বা খিচুড়ি। তারা এখন খেতে পারছেন পেটপুরে। এমনকি কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবারের বাইরেও বন্দিরা চাইলে কারা ক্যান্টিন থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার কিনে খেতে পারছেন। বিশেষ দিনগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে মোরগ-পোলাও কিংবা গরুর মাংস-খিচুড়িসহ উন্নতমানের খাবার।
দেশে মোট কারাগার রয়েছে ৬৮টি। এর মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা কারাগার। মোট বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, খাবারের মেনুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সকালের নাশতায় সপ্তাহের সাত দিনকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দুই দিন সকালে খিচুড়ি, দুই দিন রুটি- হালুয়া, তিন দিন রুটি-সবজি। দুপুরে ভাত, সবজি ও ডাল থাকে। রাতের খাবারে ভাত, সবজি, ডাল, মাছ বা মাংস থাকে। হাজতিদের যে খাবার দেওয়া হয়, সেটা কয়েদিদেরও দেওয়া হয়ে থাকে। কয়েদিদের ক্ষেত্রে বরাদ্দটা একটু বেশি। যেহেতু তাদের কাজ করতে হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের জুনে সকালের নাশতায় বন্দিদের জন্য খিচুড়ির ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
সূত্র জানায়, দুপুরে একজন হাজতি বন্দির জন্য চাল বরাদ্দ ২৪৭ গ্রাম। ২৯১ গ্রাম চাল কয়েদির জন্য। তবে মাছ, মাংস বা অন্য খাবার সবই এক। শুধু চালটা একটু বেশি। অপরদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কয়েদিদের মতোই খাবার পেয়ে থাকেন। তবে ভিন্নতা রয়েছে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের ক্ষেত্রে। তাদের জন্য সরকারের যে বরাদ্দ সেটা তারা নিজেরাই ঠিক করেন যে, সকালে কী খাবেন, দুপুর বা রাতে কী খাবেন। সেই হিসেবে তাদের খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুল হক মামুন বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী সারা দেশের কারাগারগুলোতে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বন্দিরা এখন ভালোমানের খাবার খেতে পারছে। তবে আরো ভালো কীভাবে করা যায়, সেদিকটা আমরা বিবেচনায় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। তিনি আরো বলেন, দুই-এক জায়গায় সমস্যা আছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। আশা করি, খুব দ্রুত এ সমস্যাটাও মিটে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুিক একজন ডিআইজি প্রিজন বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের দেওয়া খাবার ছাড়াও বন্দিদের স্বজনরা যাতে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতে পারেন, সেজন্য দেশের প্রত্যেক কারাগারে একটি করে ক্যান্টিন ও দোকান চালু করা হয়েছে। এতে করে বাইরে থেকে কারাগারে অবৈধ কোনো জিনিস প্রবেশ করতে পারে না। স্বজনরাও বন্দিদের পছন্দের খাবার বা পণ্য কিনে সরবরাহ করতে পারেন। এছাড়া দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রিজনার ক্যাশ (পিসি) বা ব্যক্তিগত তহবিল নামে একটি পদ্ধতি চালু আছে। সেখানে বন্দিদের নামে টাকা জমা রাখার সুযোগ রয়েছে আত্মীয়স্বজনদের।
তিনি আরো বলেন, দেশের সব কারাগারেই বন্দিদের খাবারের মেনু একই। বন্দি মায়েদের সঙ্গে যেসব শিশু কারাগারে থাকে, তাদের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ নাই। তবে মায়েদের যে খাবার সরবরাহ করা হয়, সেখান থেকে বাঁচিয়ে শিশুদের খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। একেবারে ছোট শিশু হলে দুধ, কিংবা কলা সরবরাহ করা হয় সকালে। আর দুপুরে মায়ের জন্য যে খাবার সরবরাহ করা হয়, সেখান থেকেই শিশুকে খেতে দেওয়া হয়।
