রংপুরে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ মামলার মূল আসামি এএসআই রাহেনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রেহানুলকে রংপুর পুলিশ লাইন থেকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক এএসআই রেহানুলকে বিভিন্ন নতুন নতুন কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং আজ বৃহস্পতিবার তাকে কোর্টে তোলা হবে। রেহানুলকে রিমান্ডে আনা হবে, পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তার কাছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এর আগে এই মামলায় গ্রেফতারকৃত অপর দুই আসামি বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার বিকালে সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলমের কাছে তারা জবানবন্দি দেয়। এর আগে একই আদালতে ধর্ষিতার ২২ ধারা মতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করে আদালতে ঘটনার বিবরণ প্রদান করেন ধর্ষণের শিকার ঐ ছাত্রী।
বুধবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আবু বাসার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, নির্যাতিতা ঐ ছাত্রী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে রাজু নামে এক পুলিশ সদস্যের কথা বলেছে। ঐ রাজুই হচ্ছে মেট্রো ডিবি পুলিশের এএসআই রাহেনুল ইসলাম। তিনি এই মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। রবিবার রাতে মামলার পরপরই রাহেনুলকে আটক করে পুলিশ লাইনে হেফাজতে রাখে মেট্রোপলিটন পুলিশ। আমরা তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আমাদের হেফাজতে নেব।
তিনি জানান, অপর দুই আসামি আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত সুমাইয়া পারভীন মেঘলা ও সম্পা এই গণধর্ষণের ঘটনায় সহযোগী আসামি। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রবিবার সকালে পূর্ব সম্পর্কের সূত্র ধরে রংপুর মেট্রোপলিটন ডিবির এসএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৫) নগরীর হারাগাছার ময়নাকুঠি কুচুটারী এলাকার নবম শ্রেণির ঐ স্কুলছাত্রীকে ডেকে এনে ক্যাদারের পুল এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে তাকে নিজে ধর্ষণ করার পর আরো কয়েক জন যুবককে দিয়ে ধর্ষণ করায়।
ইত্তেফাক/বিএএফ
