ক্ষুদ্র উদ্যোগের অনুত্পাদনশীল খাতে ঋণের সীমা বাড়ল

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫০

নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পরও কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (সিএমএসএমই) সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের ঋণ বিতরণ বাড়ছে না। তাই এ তহবিলের ঋণ বিতরণে গতি আনতে এবার সিএমএসএমইয়ের অনুত্পাদনশীল ব্যবসা উপখাতে ঋণ বিতরণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এত দিন ব্যবসা উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাত্সরিক ঋণের আনুপাতিক হার ২০ শতাংশ ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে ব্যবসা উপখাতে আগের চেয়ে বেশি প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সুযোগ তৈরি হলো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, গত ১৩ এপ্রিল সিএমএসএমই তহবিলের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, অধিকসংখ্যক জনবল নিয়োজিত থাকায় সিএমএসএমইয়ের উত্পাদন ও সেবা—এই দুই উপখাতে প্রাধান্য দিয়ে মাইক্রো ও ক্ষুদ্রশিল্পে ব্যবসা উপখাতকেও প্রণোদনা প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই সঙ্গে উত্পাদন, সেবা ও ব্যবসা উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাত্সরিক ঋণ বিনিয়োগের আনুপাতিক হার যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ২০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়।

পরবর্তীকালে গত ৩১ আগস্ট আরেক সার্কুলারের মাধ্যমে উত্পাদন ও সেবা খাতে বাত্সরিক ঋণের আনুপাতিক হার যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ শতাংশের পরিবর্তে সামগ্রিকভাবে ৮০ শতাংশে পুনর্বিন্যাস করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত শিল্প ও সেবা উপখাতে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হলেও আলোচ্য প্যাকেজ বাস্তবায়ন অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি। তাছাড়া ব্যবসা উপখাতে নিয়োজিত মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন ব্যাবসায়িক সংগঠন ব্যবসা উপখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাত্সরিক ঋণের আনুপাতিক হার ২০ শতাংশের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

তবে তহবিলের আওতায় ব্যবসা উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাত্সরিক ঋণ বিনিয়োগের ২০ শতাংশের বেশি হলে (যা কোনোভাবেই ৩০ শতাংশের অধিক হতে পারবে না) সমানুপাতিক হারে উত্পাদন ও সেবা উপখাতে ঋণের অনুপাত হ্রাস পাবে। তবে উত্পাদন ও সেবা উপখাতে সামগ্রিক ঋণের অনুপাত ৭০ শতাংশের কম হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই প্যাকেজের আওতায় মাত্র চার হাজার ৮২২ কোটি টাকা বিতরণ করেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ২৬ হাজার ৮৬৪টি সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান এই ঋণ পেয়েছে। এর মধ্যে নারী উদ্যোক্তা এক হাজার ১২৪ জন ও পুরুষ ২১ হাজার ৬৪২ জন।