শেষ মুহূর্তে করোনা ইস্যুতে মুখোমুখি ট্রাম্প-বাইডেন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার দিন বাকি। প্রচারণার শেষ দিকে এসে সুইং স্টেটগুলোর (দোদুল্যমান রাজ্য) নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া প্রধান দুই প্রার্থী। এ কারণে বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরকে আক্রমণ করে চলেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্রেটিক প্রার্থী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বুধবার দুই প্রার্থীই করোনা মহামারি ইস্যুতে বাগ্যুদ্ধে জড়িয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট ফ্লোরিডাতে প্রচারণা চালান ট্রাম্প এবং বাইডেন। এই ফ্লোরিডাতে ভর করে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন ট্রাম্প। আর এখানেই একাধিকবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের।

শেষদিকেও জাতীয় পর্যায়ে জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। গতকাল সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, বাইডেনের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৫৪ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের। অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪২ শতাংশের। যদিও জয় নির্ধারণী সুইং স্টেটগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুব বেশি নয়। এ কারণে এসব রাজ্যে প্রচারণায় বেশি সময় দিচ্ছেন দুই প্রার্থী।

প্রার্থীদের শেষ দিকের প্রচারণায় প্রধান ইস্যুতে চলছে আক্রমণ পালটা আক্রমণ। এবারের নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু করোনা মহামারি। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার অভিযোগ রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে ক্রমাগত ট্রাম্পকে আক্রমণ করে চলেছেন জো বাইডেন। এমনকি তিনি বলেছেন, ২ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকতে পারেন না।

বুধবার নিজ রাজ্য ডেলাওয়ারে এক বক্তৃতায় বাইডেন কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, সুইচ টিপে করোনা মহামারি বন্ধ করার মতো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমি প্রচারণা চালাব না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আবারও লকডাউনের বিষয়টি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত বিজ্ঞাননির্ভর হবে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই সঠিক কাজটি শুরু করব।

অন্যদিকে অ্যারিজোনায় এক সমাবেশে বাইডেনের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বাইডেন আমেরিকায় লকডাউন দেবেন। তিনি ক্ষমতায় আসলে মার্কিনিরা অর্থনৈতিকভাবে আরো দুর্ভোগের মুখে পড়বে। বাইডেনকে ভোট দেওয়ার অর্থ হবে বাচ্চারা স্কুলে যাবে না, কোনো বিয়ে হবে না, কোনো অনুষ্ঠান এমনকি বড়দিনও হবে না। তার দাবি এই নির্বাচন হলো—দ্রুত আর্থিক পুনরুদ্ধারকারী ট্রাম্প আর আর্থিক মন্দার বাইডেনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার। এর আগে অ্যারিজোনার বুলহেডে আরেক সমাবেশে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করায় সমালোচনা করেন ট্রাম্প। ঐ সমাবেশ চলাকালে আকাশ সীমায় একটি বিমান অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করতে গেলে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ-১৬ সেটিকে সতর্ক করে। এরপর ঐ বিমানটি আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি।

ফ্লোরিডা নিয়ে নতুন হিসাব-নিকাশ

গতকাল বৃহস্পতিবার একই দিন ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা চালান ট্রাম্প ও বাইডেন। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জেতার জন্য ফ্লোরিডা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই রাজ্যে না জিতলে ম্যাজিক সংখ্যা ২৭০ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট অর্জন করতে পারতেন না ট্রম্প। ঐ নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে এই ফ্লোরিডাতেই একাধিকবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। ২০০০ সালের নির্বাচনে মাত্র ৫৩৭ ভোট বেশি পেয়ে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আল গোরকে পরাজিত করেন রিপাবলিকান জর্জ ডব্লিউ বুশ। এই রাজ্যে জিতে বুশ পেয়েছিলেন ২৭১টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। আর ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সারা দেশে ডেমোক্র্যাটরা ভালো করলেও ফ্লোরিডায় সিনেট ও গভর্নর পদে সামান্য ব্যবধানে হেরেছে তারা। যদিও সাম্প্রতিক জরিপে এই ফ্লোরিডাতে ট্রাম্পের চেয়ে চার পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বাইডেন। এছাড়া ফ্লোরিডাতে বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় করছেন বাইডেন।

নির্বাচনের আরো খবর:

পেনসিলভেনিয়া এবং নর্থ ক্যারোলিনাতে ডাকযোগে আসা ব্যালট গ্রহণের সময় বাড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই রায়কে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সফলতা মনে করা হচ্ছে।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ১৪০০ কোটি মার্কিন ডলার (১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা) ব্যয় করছেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীসহ, সিনেট ও হাউজের প্রার্থীরা। ইউএস সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিকসের এক গবেষণায় এ দাবি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হচ্ছে এবারের নির্বাচনে।