ইরফান সেলিম ডিবিতে আরো ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৩

ইরফান সেলিমের দেহরক্ষী জাহিদের ঘুসিতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমদ খানের দাঁত পড়ে যায়। এর আগে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে বুলেটপ্রুফ জিপ গাড়ি থেকে নেমে ওয়াসিফের সঙ্গে কথাকাটাকাটি করেন ইরফান। একপর্যায়ে জাহিদসহ অন্যরা ওয়াসিফকে রাস্তায় ফেলে কিল-ঘুসি ও লাথি মারেন। এ সময় লে. ওয়াসিফকে বাঁচাতে তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করেন জাহিদসহ অন্যরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদুল মোল্ল­া ও মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এ বি সিদ্দিক দীপু। ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।

এদিকে চকবাজার থানায় র্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় ইরফান ও জাহিদুলকে সাত দিন করে প্রত্যেকের ১৪ দিন রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মওদুত হাওলাদার।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ইরফান, জাহিদুল ও দীপুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ খানকে কেন মারধর করেছে, কেন তাকে হত্যাচেষ্টা ও হুমকি দেওয়া হলো, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘র্যাবের অভিযানে ইরফানের বাসা থেকে অবৈধ বিদেশি অস্ত্র ও ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে। এসব অস্ত্র ও ওয়াকিটকির বিষয়ে যে অভিযোগগুলো আছে, তা খতিয়ে দেখছি আমরা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’

গত রবিবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খানকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ইরফান সেলিমকে বহনকারী এমপি স্টিকার লাগানো গাড়ি দিয়ে নৌবাহিনী ঐ কর্মকর্তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। পরদিন সোমবার সকালে ইরফান সেলিম, এ বি সিদ্দিক দীপু, মো. জাহিদ ও গাড়িচালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুই-তিন জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ভুক্তভোগী। ঐ দিনই দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর চকবাজারে হাজি সেলিমের ২৬ দেবীদাস ঘাট লেনের বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযান শেষে অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে ইরফান সেলিম ও মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই দুজনকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।