অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাবে উদীচী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৪

গণমানুষের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের যে লক্ষ্য নিয়ে ৫২ বছর আগে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যাত্রা শুরু করেছিল আজও তারা সে পথ থেকে সরে আসেনি। এখনো মানুষের অধিকারের দাবিতে, অন্যায়ের প্রতিবাদে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা গানে, সুরে প্রতিবাদ জানায়। স্বপ্ন দেখে সুন্দর আগামীর। উদীচীর শত শত শিল্পী, শুভার্থী ও সদস্যদের কণ্ঠে আবারও উচ্চারিত হলো সেই পথে চলবার শপথ। গতকাল উদীচীর নবীন-প্রবীণ সদস্যরা গানে, ঢোলের বাদ্যে, নৃত্যের তালে আর নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালন করল তাদের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘বৃহস্পতিবার বিকালে ‘দূর কর দুঃশাসন দুরাচার—জনতা জেগেছে যে দুর্বার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শাহবাগ চত্বরে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর দলীয় সংগীত ‘আরশির সামনে একা একা দাঁড়িয়ে... উদীচী এমনই এক আয়না’ পরিবেশন করেন উদীচীর সব সদস্য। উদ্বোধনী পর্বে আলোচনায় অংশ নেন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ ইদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সঙ্গীতা ইমাম ও ইকবালুল হক খান প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন হাবিবুল আলম।

বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের ক্রান্তিকালে সংস্কৃতির শক্তিতে সব সময় প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। আগামীতেও সময়ের দাবি মেটাতে উদীচী অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য উদীচীর এ সংগ্রাম চলতেই থাকবে। গণমানুষের সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী, ১৯৬৮ সাল থেকে মানুষের অধিকার আদায়ে সাংস্কৃতিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ আন্দোলনমুখর পথচলায় মুক্তিযুদ্ধ থেকে এ যাবত্কালে সংঘটিত সব আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচনার পর ছিল প্রতিবাদী সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও পথনাটক। শুরুতেই প্রতিবাদী নৃত্য পরিবেশন করেন আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতি ও মৃত্তিকা আনোয়ার প্রভা। শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘অধিকার কে কাকে দেয়, অধিকার কেড়ে নিতে হয়’, ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা’ ও ‘চিত্কার করো মেয়ে দেখি কতদূর গলা যায়’। এরপর একক গান পরিবেশন করেন শিল্পীরা। মাইশা সুলতানা শোনান ‘আমি মানবধর্মে মানবকর্মে সঁপিনু এ প্রাণময়’, সাজেদা বেগম শোনান ‘আগুনে ঘুমাই আগুনে খাই রে’, রবিউল হাসান শোনান ‘চলো যাই চলো যাই’। কবিতা আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন, মিজানুর রহমান সুমন ও শিখা সেনগুপ্তা।

সবশেষে ছিল উদীচীর পথনাটক ‘সময়ের আর্তনাদ’। নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক ছিলেন নাজমুল হক।